নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর)-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (রক্ষণাবেক্ষণ) পদে মির্জা মো. ইফতেখার আলীর সাম্প্রতিক পদায়নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা–সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই শাখাটি এলজিইডির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ, যার মাধ্যমে সারা দেশের গ্রামীণ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় হয়। ফলে এ পদে নিয়োগকে ঘিরে জনমনে কৌতূহল ও উদ্বেগ—দুইই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মির্জা মো. ইফতেখার আলী ১৯৬৮ সালে সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯২ সালে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৯৫ সালে সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে এলজিইডিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ চাকরিজীবনে তিনি বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ২০১২ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেন।
তবে তার কর্মজীবনের বিভিন্ন সময় ঠিকাদারি কার্যক্রম, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বদলি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও উঠে এসেছে, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম–এর নাম আলোচনায় এসেছে। যদিও এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন বা আদালতের চূড়ান্ত রায় প্রকাশ্যে আসেনি।
সমালোচকদের দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একটি সূত্র জানায়, পদায়ন প্রক্রিয়া প্রশাসনিক নিয়ম ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা না আসায় জনমনে প্রশ্ন ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মতো স্পর্শকাতর খাতে আস্থা বজায় রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট সব নিয়োগ ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।