শাহাদুর রহমান সুজন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদকঃ
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের মানিকনগর কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) শিবানী রায়ের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, রোগীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ উঠেছে। তার এইসব অনিয়মের কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিবানী রায় অনিয়মিতভাবে ক্লিনিকে উপস্থিত হন। মাঝে মধ্যে এলেও ১-২ ঘণ্টার বেশি থাকেন না। এতে চিকিৎসা সেবা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার মানুষ। রোগীরা অভিযোগ করেছেন, শিবানী রায় রোগীদের ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করতে দেন না। ক্লিনিকের দরজার সামনে টেবিল নিয়ে বসে চিকিৎসা দেন। পাঁচ ফুট দূর থেকে কথা বলেন, ঠিক মতো ওষুধও সরবরাহ করেন না। কেউ এসব বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করে তাড়িয়ে দেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিক এর মূল ফটকের দরজা আটকিয়ে ভ্রাম্যমান টেবিল বসিয়ে রোগীদের বাহিরে দাঁড় করিয়ে রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীরা কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক বলেন, (এইএইচসিপি) শিবানী রায়, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এই ক্লিনিকের বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত করছেন। আমরা কেউ তার কাছ থেকে ঠিক মতো চিকিৎসা সেবা পাই না। সে ক্লিনিকে এসে কিছুক্ষণ পরেই চলে যায়। দুপুর ১টা বাজলেই তালা ঝুলে এই ক্লিনিকটিতে।
এসব বিষয়ে (সিএইচসিপি) শিবানী রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিষেধ করেছেন সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে। আমি আপনাদের সাথে কোন কথা বলতে চাই না। এরপর মানিকনগর কমিটি ক্লিনিক এর দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজারের নাম্বার চাইলে তাতেও তিনি বলেন, সেও নাকি নাম্বার দিতে মানা করেছেন। শিবানী রায়ের এমন ব্যবহারে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে জনসাধারণের মাঝে।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, এই শিবানী রায়ের বিরুদ্ধে এর আগেও এসব অনিয়মের জন্য সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। কিন্তু উদ্বোধন কর্মকর্তারা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেন নি। শিবানী রায়ের এত ক্ষমতার খুঁটির জোর কোথায় এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইমত জাহান ভূঁইয়া বলেন, আমরা এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।