বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দিনাজপুরে থানায় জিডি করতে গিয়ে সাংবাদিকের কলার ধরে লকআপে নেওয়ার চেষ্টা তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে যুবরাজ-বুশরা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় আড়াই কোটি টাকার ১০ টি স্বর্ণের বারসহ চোরাকারবারি আটক সর্বকাজের কাজী চুয়াডাঙ্গার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ভারপ্রাপ্তের ভারে ভারাক্রান্ত, দেখার কেউ নেই ভাঙ্গুড়ায় দৈনিক আলোকিত নিউজের ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ভালুকায় অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির দায়ে ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা চুয়াডাঙ্গায় ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেটের অস্থিরতা, প্রতিবাদে মানববন্ধন সাভারে সরকারি ১০০ শতক জমি আত্মসাৎ,রেকর্ড জালিয়াতি, ‘পাতা ছেঁড়া’ রহস্য ও কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ৮ বাংলাদেশি উদ্ধার, আটক- ২

‘মুখ ও মুখোশ’-এর গায়িকা মাহবুবা রহমান আর নেই

বিনোদন প্রতিবেদক:

একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’–এর গায়িকা মাহবুবা রহমান মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছোট মেয়ে সংগীতশিল্পী রুমানা ইসলাম।

রুমানা ইসলাম বলেন, ‘মায়ের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ছিল। ৭ মার্চ তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বার্ধক্যজনিত সমস্যার সঙ্গে নিউমোনিয়ার আক্রমণ ছিল। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।’

রুমানা ইসলাম জানান, মাহবুবা রহমানের মরদেহ মগবাজারে তাঁর বাড়িতে রাখা আছে, যেখানে ছিল শ্রুতি স্টুডিও। আজ শুক্রবার বাদ জুমা মগবাজার ওয়্যারলেস জামে মসজিদে তাঁর জানাজা হবে। এরপর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মাহবুবা রহমান পঞ্চাশ ও সত্তরের দশকের রেডিও ও চলচ্চিত্রের অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মূলত পল্লিগীতি ও আধুনিক গানের শিল্পী। ১৯৪৭ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিওর ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রথম তাঁর গান প্রচারিত হয়।

দেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’–এ সমর দাসের সুরে মাহবুবা রহমান গেয়েছিলেন ‘মনের বনে দোলা লাগে’ গানটি। এরপর শিল্পী আব্বাসউদ্দীনের সুরে ফতেহ লোহানীর ‘আসিয়া’ ছবির ‘আমার গলার হার খুলে নে ওগো ললিতে’ গানে কণ্ঠ দেন। এরপর তিনি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ছবিতে সরোদবাদক তিমিরণের সুরে এবং কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজের লেখা ‘মোতি হো কে সিসা হো, জো টুট গ্যায়া’ গানটি করেন। এ ছবির পরিচালক ছিলেন এ জে কারদার। ছবির নায়ক-নায়িকা ছিলেন খান আতাউর রহমান ও তৃপ্তি মিত্র।

মাহবুবা রহমান নিজের সংগীতগুরু মমতাজ আলী খানের সুরে অনেকগুলো গান করেন। দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া এসব গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘বৈদেশি নাগর’, ‘যাইও না যাইও না বৈদেশে যাইও না’ এবং ‘সাত ভাই চম্পা’ ছবির ‘আগুন জ্বালাইস না আমার গায়’ ।

স্বামী খান আতাউর রহমানের সঙ্গে প্রথম রেডিওতে মাহবুবা রহমান গেয়েছেন ‘আমার থাকত যদি পাখির মতো ডানা’ গানটি। ১৯৬১ সালে জহির রায়হানের ‘কখনো আসেনি’ ছবিতে খান আতাউর রহমানের সুরে দুটি গান করেন, ‘নিরালা রাতের প্রথম প্রহরে’ ও ‘তোমাকে ভালোবেসে অবশেষে কী পেলাম’। ১৯৬৮ সালে করাচির হিজ মাস্টার ভয়েস থেকে খান আতাউর রহমানের সুরে এই শিল্পীর কিছু গান রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে ‘আমার যদি থাকত পাখির ডানা’, ‘আমার না–বলা কথা’, ‘সোনালি এই ধানের খেতে’, ‘আগে জানি না রে দয়াল’, ‘তুমি দাও দেখা দরদি’, ‘আমার বন্ধু বিনোদিয়া’, ‘আজকে আমার মালঞ্চে ফুল ফোটে নাই’, ‘আমার মন ভালো না গো প্রাণ ভালো না গো’ গানগুলো উল্লেখযোগ্য।

এ ছাড়া এহতেশামের ‘এ দেশ তোমার আমার’ ছবিতেও গান করেন মাহবুবা রহমান। পাশাপাশি ‘সোনার কাজল’, ‘যে নদী মরুপথে’, ‘রাজা সন্ন্যাসী’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ ছবিতেও প্লেব্যাক করেন তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page