বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দিনাজপুরে থানায় জিডি করতে গিয়ে সাংবাদিকের কলার ধরে লকআপে নেওয়ার চেষ্টা তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির নেতৃত্বে যুবরাজ-বুশরা চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় আড়াই কোটি টাকার ১০ টি স্বর্ণের বারসহ চোরাকারবারি আটক সর্বকাজের কাজী চুয়াডাঙ্গার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রশাসন ভারপ্রাপ্তের ভারে ভারাক্রান্ত, দেখার কেউ নেই ভাঙ্গুড়ায় দৈনিক আলোকিত নিউজের ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ভালুকায় অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির দায়ে ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা চুয়াডাঙ্গায় ভোজ্যতেলের বাজারে সিন্ডিকেটের অস্থিরতা, প্রতিবাদে মানববন্ধন সাভারে সরকারি ১০০ শতক জমি আত্মসাৎ,রেকর্ড জালিয়াতি, ‘পাতা ছেঁড়া’ রহস্য ও কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততা চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভারতে পাচারের চেষ্টাকালে ৮ বাংলাদেশি উদ্ধার, আটক- ২

‎মাদারীপুরের মেয়ে অনুশিলা বাড়ৈ ও তার প্রেমিক স্বামী বিশ্বজিৎ বাড়ৈ এর শেষ পরিনতি কোন পথে??


‎এমদাদুল হক, নিজস্ব প্রতিবেদক মাদারীপুর:


‎মাদারীপুরে নবগ্রামে শশুর বাড়িতে জামাইয়ের বিয়ের স্বীকৃতি ও স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার দাবীতে উপজেলার নবগ্রামে বিশ্বজিৎ বাড়ৈ(২৮) নামে এক যুবক অনশন শুরু করছেন। এঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

‎বুধবার(১লা এপ্রিল) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানাগেছে, উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামে গত মঙ্গলবার থেকে স্বামী বিশ্বজিৎ বাড়ৈ স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনুশীলা বাড়ৈর বাবার বাড়ীতে অনশনে বসেন। অনশনে বসা বিশ্বজিৎ পাত্র ডাসার উপজেলার নবগ্রামের বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বজিৎ পাত্রের সাথে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ একই ইউনিয়নের মনতোষ বাড়ৈর মেয়ে অনুশীলা বাড়ৈর(২৩) এর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা চার বছর আগে ঢাকা হাইকোর্টে ৩ শত টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বিজ্ঞ নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে কোর্ট ম্যারেজ করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিশ্বজিৎ পাত্র সেই সম্পর্কে বিয়ের স্বকৃীতি দাবি করেন।

‎এ ঘটনায় অনশনে বসা বিশ্বজিৎ পাত্র সাংবাদিকদের জানান, আমার ১০ বছরের সম্পর্ক অনুশীলা বাড়ৈর সাথে। তার নার্সিং পড়ালেখার জন্য আমি তার পিছনে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা ব্যায় করছি। ঢাকায় আমরা দুজন এক সাথে দীর্ঘ সময় বাসা ভাড়া করে থেকেছি। তার পরিবার ও এলাকার মানুষ সবাই জানে। সম্প্রতি লেখাপড়া শেষ করে আমার স্ত্রী একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্সিংয়ে চাকুরি নিয়েছে। চাকরির পর থেকে আমার স্ত্রী তার পরিবারের কু-প্রচনায় আমার সাথে দুরত্ব বজায় রাখছে।

‎তিনি আরো বলেন, অনুশিলা বেশ কিছুদিন ধরে আমার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। তাই আমি নিরুপায় হয়ে আমার শশুর বাড়ীতে আমার বিয়ের সম্পর্কের স্বীকৃতি ল পেতে অনশনে বসেছি। এর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমি এখানেই অনশন চালিয়ে যাব আমৃত্যু।

‎এ বিষয়ে অনুশীলা বাড়ৈ বলেন, তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল, এখন নেই। বিশ্বজিৎ আমাকে জোড় করে কোর্টে নিয়ে কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে বিয়ে করেছে। আমি তাকে এক সপ্তাহ আগে ডিভোর্স দিয়েছি। তার সাথে আমি সংসার করবো না।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অনুশীলা আরো বলেন, বিশ্বজিৎ আমার নার্সিং পড়াশোনা করতে কিছু খরচ দিয়েছে কথা সত্য। আমি তা অস্বীকার করছি না।

‎অনুশীলার বাবা মনতোষ বাড়ৈ ও তার মা বলেন, আমরা শুনেছি আমার মেয়ে ভালোবাসে গোপনে বিয়ে করেছিলো। বিয়ের পরে আমার মেয়ের নার্সিং পড়াশোনার খরচ বিশ্বজিৎ পাত্র কিছুটা দিয়েছে, আমরাও দিয়েছি। এখন মেয়ে ওই ছেলের সঙ্গে সংসার করতে চায় না। তাহলে আমরা এখন কি করতে পারি?
‎তারা আরো বলেন ছেলে মেয়ে উভয়ে এক ছাদের নীচে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে সংসার করতে চাইলে আমাদের আপত্তি করার তো কিছু নেই। তারা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক তারা তাদের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

‎স্থানীয় মেম্বার ও কয়েকজন সচেতন এলাকাবাসী জানান, অনুশিলার সাথে বিশ্বজিতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সেই সম্পর্কের জেরে তারা দুজনের সম্মতিতে গোপনে বিয়ে করেছিলো। এটা এলাকার সবাই জানে। তাদের সেই প্রেমের সম্পর্কেই বিয়ের স্বকৃীতির দাবীতে ছেলেটি দুইদিন ধরে অনশনে বসেছে। উভয় পরিবারের সাথে আমরা কথা বলেছি। সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

‎এ বিষয়ে ডাসার থানার ওসি মো.তরিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে থানায় এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page