নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ব্লক–ই, লাইন–৮ এলাকার বাসিন্দা মনির গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে হঠাৎ নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ওই দিন তিনি বিএনপির একটি দলীয় নির্বাচনী কার্যালয়ের উদ্বোধনী সভায় অংশ নিতে গিয়ে সেখান থেকে আর বাসায় ফেরেননি। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সভাস্থল থেকে সিভিল পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ডেকে নিয়ে যান।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিখোঁজ হওয়ার পর স্থানীয় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পল্লবী থানাসহ আশপাশের থানায় যোগাযোগ করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের ডিসি কার্যালয় থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মনিরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরিবারের দাবি, মনিরকে গ্রহণ করার সময় তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। কীভাবে তিনি এমন অবস্থায় পড়লেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনির সংক্ষিপ্তভাবে পরিবারের সদস্যদের জানান, তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে দলীয় এক কর্মী জাহাঙ্গীর আলমের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, মনির স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন এবং অতীতের বেশ কিছু আন্দোলন–সংগ্রামেও তার ভূমিকা ছিল। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও নিখোঁজ থাকার সময়কার ঘটনার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।