• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন
Headline
নেত্রকোনা জেলা রেজিস্ট্রার আ:খালেকের মাসিক উপরি আয় দেড় কোটি টাকারও বেশি শালিখায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিল্লাল গ্রেফতার ঈদ আনন্দে ক্রিকেটের উন্মাদনা, মণিরামপুরে ইয়ুথ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর উঠানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মণিরামপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত ঈদে আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার পথে প্রাণ গেল দুই যুবকের বেনাপোল রাজস্ব কর্মকর্তা রাসেল কবিরের নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় সরাইলে পারিবারিক বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা সাজিদ হাসানের সৌজন্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে চুয়াডাঙ্গার বাড়াদী সীমান্তে নারী শিশু সহ আটক ১০

ক্ষেতলালে লেখাপড়া না করেও ভূয়া সনদে ৩০ বছর চাকরি

সুলতান মাহমুদ, জেলা প্রতিনিধি, জয়পুরহাট। / ৯৮ Time View
Update : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার খোশবদন জি.ইউ দ্বি-মুখী আলিম মাদ্রাসায় দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালনকারী মোঃ আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে ভুয়া ও অবৈধ শিক্ষাসনদ ব্যবহার করে চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ না করেও প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় তিনি ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ পান। অভিযোগ রয়েছে, চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি অষ্টম শ্রেণি পাসের যে সনদ জমা দেন, সেটির সত্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন ছিল। সম্প্রতি বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এলে সরেজমিন অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে একাধিক অসঙ্গতির তথ্য।

গত ২৮ এপ্রিল অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে নৈশ প্রহরী আব্দুল মজিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি স্বীকার করেন, নিয়োগের সময় প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন প্রধান তাকে “যেকোনো প্রতিষ্ঠান” থেকে অষ্টম শ্রেণি পাসের একটি সনদ সংগ্রহ করে জমা দিতে বলেছিলেন। পরে তিনি ইটাখোলা মাদ্রাসা থেকে সিল-স্বাক্ষরযুক্ত একটি সনদ এনে প্রতিষ্ঠানে জমা দেন বলে জানান।

তবে বক্তব্য দিতে গিয়ে একাধিকবার পরস্পরবিরোধী তথ্য দেন আব্দুল মজিদ। প্রথমে তিনি দাবি করেন, তিনি ক্ষেতলাল মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হলেও পরীক্ষা দেননি। কিছুক্ষণ পর আবার বলেন, তিনি অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা দিয়েছিলেন কিন্তু পাস করতে পারেননি।
তার এমন পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আরও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মচারীরা জানান, তিনি বর্তমানে হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

পরে প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সে সময় এগুলো রহস্যজনকভাবে হয়েছে।

পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন।

তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ গত ৬ই মে পুনরায় ভাইস প্রিন্সিপালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে গিয়ে বলেন, আজ-কাল ব্যস্ত থাকবো, আমার সঙ্গে দেখা হবে না।

এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মোমেন মনির বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ও জাল সনদের মাধ্যমে চাকরির মতো ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা