টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌফিক আযমের বিরুদ্ধে ঢালাও উৎকোচ গ্রহণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানান দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে।
তার বিরুদ্ধে মানুষকে অহেতুক হয়রানি এবং মামলার ভয় দেখিয়ে অনৈতিক অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে প্রকাশ ও ভূক্তভোগীদের দাবি, কালিহাতী থানায় জিডি বা মামলা করতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে কোনপ্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়। এছাড়া এলাকার বালু ব্যবসা, মাদক ও জুয়ার স্পটগুলো থেকে তিনি নিয়মিত উৎকোচ গ্রহণ করেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা না দিলে কালিহাতী থানায় কোনো আইনি সহায়তা পাওয়া যায় না, উল্টো অনেক ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হতে হয় সেবা গ্রহীতাদেরকে ।
এছাড়াও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা না দিলে তালবাহানা করে সময়ক্ষেপন করা হয় বলেও একাধিক ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভূক্তভোগী জানান, একটি সাধারণ পারিবারিক বিরোধের অভিযোগ মীমাংসা করতে গিয়ে ওসি তৌফিক আযম মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভূক্তভোগীকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হয়। অপর এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওসি তৌফিক আযম স্থানীয় নিরপরাধ ব্যক্তিদের নানাভাবে হয়রানী করে অর্থ আদায়ে লিপ্ত রয়েছেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের আটক না করে তাদের সাথে আর্থিক সমঝোতা করে নিরাপদে এলাকায় অবস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন বলেও গুরুতর অভিযোগের তীরও রয়েছে কালিহাতীর অফিসার ইনচার্জের বিরুদ্ধে।
এছাড়াও বল্লা, কোকডহরা, পাইকড়া, সহদেবপুর, নাগবাড়ী,বাংড়া,দূর্গাপুর,দশকিয়া, নাগবাড়ী,সল্লা,নারান্দিয়া,গোহালিয়াবাড়ী ও পারখী ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব নিয়েছেন বলেও জনশ্রুতি রয়েছে।
কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ তৌফিক আযমের নামে যেসকল ব্যক্তি ও স্থান থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয় তার একটি লম্বা তালিকা ও টাকা লেনদেন এর বিষয়ে একাধিক অডিও ক্লীপ এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ওসি তৌফিকজমি
আযমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।
ওসি তৌফিক আযমের ঘুষ দুর্নীতি ও উৎকোচ গ্রহনের ফিরিস্তি নিম্নরূপ…..
২
১ এলেঙ্গা বাবলাঘাটে বালু ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে কালেকশন পয়েন্ট প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে
২. ময়লাঘাট বালুঘাট থেকে মোটা অংকের নজরানা দেয় বারেক।
৩.পুংলি বালুঘাট থেকেও পয়েন্ট প্রতি ৫০ হাজার করে টাকা নেয় ওসি তৌফিক আযম।
৪.নাগবাড়ি, বল্লা,পারকি পাইকরা এলাকার জমি থেকে মাটি কাটলে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয় ওসিকে।
৫. থানার রাইটার ( মুন্সি)র কাছ থেকে মাসে ২ লাখ টাকা করে নেন ওসি।
৬. ভুক্তভোগীরা থানায় এসে অভিযোগ/মামলা ও সিআর মামলা করলে ওসিকে দিতে হয় মোটা অংকের উৎকোচ ৷
( এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত পড়ুন আগামীকাল আমাদের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে।