অনুসন্ধানী প্রতিবেদকঃ-
রাজধানীর উত্তরা ডিয়াবাড়ি বিআরটিএ (ঢাকা মেট্রো-০৩) এখন অনিয়ম আর দুর্নীতির এক নিরাপদ দুর্গে পরিণত হয়েছে। আর এই দুর্গের নেপথ্য কারিগর হিসেবে আঙুল উঠেছে উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার দেবনাথের দিকে। নিয়োগ বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিদেশে অর্থপাচার—এমন কোনো অভিযোগ নেই যা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠেনি। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া একটি অভিযোগপত্র এবং ভুক্তভোগীদের বয়ানে বিআরটিএ-র এই কর্মকর্তার অন্ধকার জগতের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, জন্মসূত্রে আওয়ামীলীগার ও ছাত্রলীগের সাবেক পেতাত্মা সুব্রত কুমার দেবনাথের ছত্রছায়ায় উত্তরা বিআরটিএ-তে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট। সাধারণ গ্রাহকরা সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে দেওয়া হয়। কিন্তু দালালের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ‘কমিশন’ দিলেই মুহূর্তের মধ্যে ফাইল ছাড় পান গ্রাহকরা। প্রতিদিন এই কার্যালয় থেকে উপ-পরিচালকের পকেটে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। গ্রাহকদের অভিযোগ, সুব্রত কুমার দেবনাথের ইশারা ছাড়া সেখানে একটি পাতাও নড়ে না। সুব্রতর এই দাপটের মূলে রয়েছে তাঁর পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয়। তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রভাবশালী নেতা পংকজ কুমার দেবনাথের আপন ভাই। ছাত্রলীগের ক্যাডার কোটায় চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি বিআরটিএ-কে নিজের ব্যক্তিগত আয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ক্ষমতার দাপটে তিনি বিআরটিএ-র প্রধান কার্যালয়ের একাধিক বিভাগীয় মামলাকেও তোয়াক্কা করেন না। সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি উঠেছে হুন্ডি ও বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচার নিয়ে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পংকজ কুমার দেবনাথের রাজনৈতিক প্রভাবে সুব্রত দেবনাথ শত শত কোটি টাকা ভারতে পাচার করেছেন। প্রতিবেশী দেশটিতে তার নামে এবং বেনামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ।
বিলাসবহুল বাড়ি: কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে ৩টি অত্যাধুনিক প্রাসাদ।
বিশাল ভূ-সম্পত্তি: প্রায় ৩৫ বিঘা জমি।
ব্যবসা ও গাড়ি: ৪টি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ২টি বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
এছাড়াও ঢাকার পশ্চিম রামপুরায় (বাসা নং-৩১৪/৪) বসবাসকারী এই কর্মকর্তার নামে রাজধানীতে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লটের তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আদেশ অমান্য”
বিগত জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বঙ্গবন্ধু সেতু ও টানেলের নাম পরিবর্তন করে যথাক্রমে ‘যমুনা সেতু’ ও ‘কর্ণফুলী টানেল’ করার প্রজ্ঞাপন জারি করলেও সুব্রত দেবনাথ তা আমলে নিচ্ছেন না। তার কার্যালয় থেকে সরবরাহকৃত ভাড়ার তালিকায় এখনো আগের নামগুলোই ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরাসরি সরকারের প্রশাসনিক আদেশের লঙ্ঘন। ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নিজের পিঠের চামড়া বাঁচাতে সুব্রত কুমার দেবনাথ এখন মরিয়া হয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের তদ্বির পাওয়ার চেষ্টা করছেন। চতুর এই কর্মকর্তা নিজের আগের সব অপকর্মের দায়ভার বর্তমান পরিস্থিতির ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন।
এদিকে, তার দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভাড়াটে মাস্তান ও সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ রাখার চেষ্টা করছেন।
বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জের সন্তান সুব্রত কুমার দেবনাথের (এনআইডি: ৯১২৭৫৭৬৩৭০) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাধারণ গ্রাহক ও বিআরটিএ-র সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। সাংবাদিক সমাজ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি কোনো গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলা বা হত্যার হুমকি আসে, তবে এর দায়ভার সুব্রত কুমার দেবনাথ ও তার সহযোগীদেরই নিতে হবে।
আগামী পর্বে আসছে:
( সুব্রত কুমার দেবনাথের ‘স্লিপার বাস’ কেলেঙ্কারি:
কীভাবে সারাদেশের সহ-পরিচালকদের সাথে যোগসাজশে কোটি কোটি টাকার জাল রুট পারমিট বাণিজ্য পরিচালনা করেছেন ।