রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে ইনকোর্স পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ার এক নজিরবিহীন ও অমানবিক অভিযোগ উঠেছে। কলেজ অধ্যক্ষের লিখিত অনুমতি থাকা সত্ত্বেও গভর্নিং বডির সাবেক প্রতিনিধি ও শিক্ষক নূরনবী আল মাহমুদের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটে। এতে করে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
গতকাল ৬ মে, বুধবার তেজগাঁও কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের দ্বিতীয় ইনকোর্স পরীক্ষা চলছিল। শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষার খাতায় মনোযোগ দিয়ে লিখছিলেন, তখনই ঘটে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। গভর্নিং বডির সাবেক শিক্ষক প্রতিনিধি ও শিক্ষক নূরনবী আল মাহমুদ হলে প্রবেশ করে ৬ মাসের অগ্রিম বেতন পরিশোধ না করা শিক্ষার্থীদের খাতা কেড়ে নিয়ে হল থেকে বের করে দেন।
তেজগাঁও কলেজ, যেখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের হাজারো শিক্ষার্থী স্বপ্ন পূরণের আশায় পড়াশোনা করেন। গত মাসেই অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা সাড়ে ১৭ হাজার টাকা পরিশোধ করে সেশন ফি ও ভর্তি কার্যক্রম শেষ করেছেন। এক মাস না ঘুরতেই চলতি মাসে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ইনকোর্স পরীক্ষা।
কিন্তু এই পরীক্ষাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেক শিক্ষার্থীর জন্য। নিয়ম অনুযায়ী ৬ মাসের অগ্রিম বেতন পরিশোধ করতে না পারায় পরীক্ষা চলাকালীন হল থেকে বের করে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, তারা অনেকেই টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, গাজীপুর বা ডেমরা থেকে কষ্ট করে পরীক্ষা দিতে আসেন। কেউ কেউ অফিস থেকে ছুটি নিয়ে এবং টিউশনির টাকা জমিয়ে পড়াশোনা চালাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীরা আক্ষেপ করে বলেন, “রোজার ঈদে সেশন ফির বড় অংকের টাকা দিয়েছি। সামনে কোরবানির ঈদ। এই মুহূর্তে একসাথে ৬ মাসের বেতন দেওয়া আমাদের পরিবারের পক্ষে অসম্ভব। অধ্যক্ষ ম্যাম মানবিক দিক বিবেচনা করে পরীক্ষার অনুমতি দিলেও নূরনবী স্যার আমাদের কোনো কথাই শুনলেন না। খাতার অর্ধেক লেখা হয়ে গিয়েছিল, সেখান থেকে আমাদের টেনে বের করে দেওয়া হয়েছে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষার হল থেকে এভাবে শিক্ষার্থী বের করে দেওয়া কেবল অমানবিকই নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে শিক্ষকদের পরম বন্ধু ও অভিভাবক হওয়ার কথা, সেখানে নূরনবী আল মাহমুদের এমন রুক্ষ আচরণ ও আইন অমান্য করে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে একটি বিশাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারা বলেন— “শিক্ষার্থীরা প্রায়ই রাজনৈতিক বড় ভাইদের নিয়ে আসেন এবং কিছু রাজনৈতিক শিক্ষকদের ছত্রছায়ায় সেশন ফি পরিশোধ না করেই পরীক্ষা দিতে চান। ফলে কলেজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের তিন ভাগের এক ভাগও আমরা আদায় করতে পারছি না।”
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়ালেখা করা এসব শিক্ষার্থীর দাবি, তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসার কষ্ট প্রশাসন যেন বিবেচনা করে। একজন শিক্ষকের এমন জেদি আচরণের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন যেন হুমকির মুখে না পড়ে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগীরা।