• বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন
Headline
বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চান ইমদাদুল হক ইমদাদ স্বেচ্ছাসেবকলীগের সেক্রেটারি পংকজ কুমার দেবনাথের ভাই BRTA ঢাকামেট্রো-৩ এর ‘ছায়া সম্রাট’ সুব্রত কুমার দেবনাথ বহাল এখনো ???  একপেশে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন সততা, নিষ্ঠা আর দায়িত্বশীলতার পুরষ্কার রুখে দেওয়া যায় না জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে নতুন আন্দোলনের পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে’–চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত নেতা জুবায়ের বেনাপোল বন্দরে নথিপত্রহীন পণ্য জব্দের পর পাচার, অভিযুক্ত শেড ইনচার্জ আবুল খায়ের,সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইদুল,আনোয়ার ও রাসেল এখনো বহাল তবিয়তে রংপুরে ‘লাক্সারি চাইনিজ অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এর যাত্রা শুরু ঠাকুরগাঁওয়ে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠিত ইউএনও রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে পোরশা মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবীশ এনামুল আওলাদ আয়নাল আকিবদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ

বেনাপোল বন্দরে নথিপত্রহীন পণ্য জব্দের পর পাচার, অভিযুক্ত শেড ইনচার্জ আবুল খায়ের,সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইদুল,আনোয়ার ও রাসেল এখনো বহাল তবিয়তে

সজীব আকবর, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক / ৩০ Time View
Update : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

গত ১৩ই জুলাই ২০২৬ তারিখে কাস্টমস, এনএসআই, ডিজিএফআই এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের সমন্বয়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ৩৭ নম্বর শেড থেকে ম্যানিফেস্ট নম্বর ৩৮-৩১/১ এবং ৪১-৯/১-এর নিলামযোগ্য পণ্যের আড়ালে বিশেষ কৌশলে পলিপ্রপিলিন দিয়ে মোড়ানো ১৯ প্যাকেজ পণ্য জব্দ করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে ছিল বিপুল পরিমাণ শাড়ি, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, ওড়না, শিশু পোশাক ও কসমেটিকস। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০৪.০৫ কেজি ওজনের এসব পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ছিল না।

অভিযানের সময় বর্তমান শেড ইনচার্জ আবুল খায়ের পণ্যগুলোর বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তার দাবি ছিল, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় আগের ইনচার্জ শাহজাহান তাকে এই পণ্যগুলো বুঝিয়ে দেননি। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবুল খায়ের মাত্র চার মাস আগে বেনাপোল কাস্টমসে যোগদান করেন। এর আগেও তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলে তার বিরুদ্ধে পণ্য আত্মসাতের বিস্তর অভিযোগ ছিল।
এ বিষয়ে আইআর টিমের সুপার জাহাঙ্গীর আলম তখন বলেছিলেন, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। শুল্কমুক্ত বা উচ্চ শুল্কের পণ্য অসাধু উপায়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বা বাইরে থেকে পণ্য বন্দরের ভেতর প্রবেশ করিয়ে জালিয়াতির ক্ষেত্র তৈরির উদ্দেশ্যে এই মজুদ করা হতে পারে। কাস্টমস সহকারী কমিশনার তৌফিকুর রহমানও জানিয়েছিলেন, ইনভেন্ট্রি চূড়ান্ত হলে পণ্যের প্রকৃত বাজারমূল্য এবং এর পেছনের মূল হোতাদের শনাক্ত করা হবে। কিন্তু
ইনভেন্ট্রি রিপোর্ট চূড়ান্ত হয়নি এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় বা আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সাধারণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্ক স্টেশনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এভাবে নথিপত্রহীন পণ্য মজুদ থাকা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা প্রমাণ করে বন্দরের নজরদারি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। যদি এভাবে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে রাজস্ব ফাঁকি ও চোরাচালানের ঝুঁকি আরও বাড়বে।

বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নং শেড থেকে ৬ কোটি টাকার জব্দ পণ্য গায়েবের ঘটনার সাথে জড়িত কাস্টমস কর্মকর্তা মাহিদুল ও আনোয়ার এখনো অধরা। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে

বন্দরের ভংয়কর শুল্ক ফাঁকি সিন্ডিকেটের শীর্ষ নের্তৃত্বে দানকারি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহিদুল, আনোয়ার,রাসেল, প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু পরিচয়দানকারী বগুড়ার হিরু অস্ত্র ব্যবসায়ী আজিম,সামাদ,ডাব্লু,রুহুল কুদ্দুস অরফে আনোয়ার এবং মনির।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১২ মার্চ বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে ৬ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকির পণ্য চালান জব্দ করা হয়। রহস্যজনকভাবে বন্দরের জিম্মায় রাখা শুল্ক ফাঁকির সেই চালান থেকে গায়েব হয়ে গেছে (উচ্চ শুল্কযুক্ত) দামি ভারতীয় পণ্য। তার বদলে সেখানে রাখা হয়েছে অতি নিম্নমানের দেশীয় শাড়ি, থ্রিপিসসহ অন্যান্য সামগ্রী। এই ঘটনায় গত ৯ (জুন) কাস্টমস বাদি হয়ে ১০ জনের নামে মামলা করে। যার মামলা নং-০৯,কাস্টম আইন, ২০২৩ এর ধারা- ৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৫/৩৪। অথচ এই পণ্য গায়েবের সাথে জড়িত রাজস্ব কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলামকে আসামি করেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম-১ এবং বন্দরের আশিকুর রহমান রনি একই এলাকার হওয়ায় যৌথ প্যাকেজে স্কেল ওজনে কারচুপি ও জাল নথিপত্র তৈরি করে পণ্য খালাসে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। কাস্টমসের ৬ কোটি টাকার আটক পণ্য চালান পাচারের সাথে তারা পরস্পর জড়িত রয়েছে। তাছাড়া রিয়াদ এজেন্সির কর্মচারি রুহুল কুদ্দুস অরফে আনোয়ারের যোগসাজসে ৬০ লাখ টাকা রফাদফায় এ পণ্য চালান সরানো হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা