স্টাফ রিপোর্টার,ঢাকা:
মাদক সন্ত্রাস ছিনতাই ও চাঁদাবাজির আঁতুড়ঘর নামে খ্যাত মিরপুর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের সন্ত্রাসীদের এবার টার্গেট এক ষাটোর্ধ বৃদ্ধা৷ যার একটি বাড়ি আছে ১১ নম্বর সেকশনের রাবেদা ক্যাম্পে। বেশ কিছুদিন যাবৎ একদল চিহ্নিত তোলাবাজ ও মাদকাসক্ত সন্ত্রাসী ওই বৃদ্ধার বাড়িটি কব্জা করার লক্ষ্যে প্রকাশ্যে এবং মোবাইলের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। এতোদিন বিষয়টি বৃদ্ধা বিশেষ গুরুত্ব না দিলেও এবার তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় বাড়ি মালিক বৃদ্ধা মামলা করে দিয়ে আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মামলার বিবরণে প্রকাশ মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের রাবেদা ক্যাম্পে একটি সাধারণ মানের বাড়ি আছে মিরপুর ১২ নং সেকশনের পূর্ব কুর্মিটোলা তোতা মিয়ার বস্তি নিবাসী মৃত আমজাদের স্ত্রী আছিয়া (৬০) এর।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, ২৪ শে আগস্ট বিকাল ৪ টার দিকে তোতা মিয়ার বস্তিতে বাদি আছিয়ার বাসায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে আশিক গ্রুপের ক্যাডার চিহ্নিত সন্ত্রাসী রাসেল(৩০), ইব্রাহিম(৩০), শাহিন(৩৬), নওশাদ( ৪০), অমিত(৩৮) সর্ব পিতা অজ্ঞাত, সর্বসাং সেকশন ১১, ব্লক-সি, তালতলার মোড়, সোনার বাংলা খিচুরি পট্টি সহ আরও অজ্ঞাত ৪/৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আছিয়াকে এই মর্মে হুমকি দেয় যে, রাবেদা ক্যাম্পের বাসায় সুখে শান্তিতে বসবাস এবং উক্ত বাড়ির মালিকানা স্বত্ব ও দখল স্বত্ব ধরে রাখতে হলে নগদ ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। মামলার বিবরণে আরো জানা যায়, ওই ১০ লাখ টাকা বৃদ্ধা আছিয়া যদি ১ সপ্তার মধ্যে না দিতে পারে তাহলে রাবেদা ক্যাম্পের বাড়িটি তারা দখল নিয়ে নিবে। এ সময় উল্লিখিত সন্ত্রাসীরা আছিয়া সহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি সহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং দফায় দফায় দেশিও অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে আছিয়ার গোটা পরিবারকে আতঙ্কগ্রস্ত করে ফেলে।
এ সময় বাড়ি মালিক বৃদ্ধা আছিয়া একটি টাকা দেওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের নেই মর্মে জানালে ১ নং আসামি রাসেল পিস্তল বের করে গুলি করার ভয় দেখায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় রাসেল আছিয়ার বুকে পিস্তল তাক করে বুক সোজা সজোরে ধাক্কা দিলে বৃদ্ধা আছিয়ার মাথা দেয়ালে ধাক্কা লাগলে তিনি আহত হন বলেও মামলার বিবরণে প্রকাশ।
ভুক্তভোগী আছিয়া ও তাঁর গোটা পরিবার তাঁদের জান-মালের নিরাপত্তাহীনতায় আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে পরদিন ২৫শে আগস্ট আছিয়া পল্লবী থানায় উপস্থিত হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৬৭, ধারা-১৪৩/ ৪৪৮/৩২৩/৩৮৫/৩৮৭/৫০৬ পেনাল কোড।