করোনাকালে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া এক চিকিৎসককে নানা অভিযোগে চুক্তি বাতিলের প্রায় এক বছর পাঁচ মাস পর আবারও কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই একই প্রতিষ্ঠানে পুনর্নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিস সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় চিকিৎসক সংকট মোকাবেলায় নিয়মিত নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব না হওয়ায় সংক্ষিপ্ত ভাইভার মাধ্যমে ওই চিকিৎসককে খণ্ডকালীন মেডিকেল অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে মেডিকেল অফিসার পদে নিয়মিত নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। একই সময়ে নতুন চিকিৎসক নিয়োগের মাধ্যমে জনবল সংকটও অনেকাংশে দূর হয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কর্মরত অবস্থায় তার বিরুদ্ধে সাক্ষর খাতায় অনিয়মের মাধ্যমে অতিরিক্ত বেতন গ্রহণের চেষ্টা, বারবার সতর্ক করার পরও বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের শুরুতে তার চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রায় দেড় মাস পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী টিপু মুন্সির সুপারিশে তার চুক্তি পুনরায় নবায়ন করা হয়।
এরপরও বিভিন্ন বিতর্ক তার পিছু ছাড়েনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সংবেদনশীল কাগজপত্র জাল করে ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খণ্ডকালীন চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে ‘সিনিয়র মেডিকেল অফিসার’ হিসেবে পরিচয় দিতেন। এসব অভিযোগের কিছু প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

ক্রেডিট কার্ডসংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিস তার চুক্তি বাতিল করে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত চিকিৎসক থাকায় ভবিষ্যতে কোনো খণ্ডকালীন চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই বলে প্রধান কার্যালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়।
তবে চুক্তি বাতিলের প্রায় এক বছর পাঁচ মাস পর কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, লিখিত পরীক্ষা বা উন্মুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাকে আবারও একই অফিসে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নীতিমালা অনুসরণের বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
DOC-20260629-WA0006
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একদিকে পূর্বের নানা অভিযোগ, অন্যদিকে জনবল চাহিদা না থাকার লিখিত তথ্য—সবকিছুর পরও কীভাবে এবং কোন বিবেচনায় ওই চিকিৎসকের পুনর্নিয়োগ দেওয়া হলো, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।