• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
Headline
বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চান ইমদাদুল হক ইমদাদ স্বেচ্ছাসেবকলীগের সেক্রেটারি পংকজ কুমার দেবনাথের ভাই BRTA ঢাকামেট্রো-৩ এর ‘ছায়া সম্রাট’ সুব্রত কুমার দেবনাথ বহাল এখনো ???  একপেশে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন সততা, নিষ্ঠা আর দায়িত্বশীলতার পুরষ্কার রুখে দেওয়া যায় না জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে নতুন আন্দোলনের পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে’–চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত নেতা জুবায়ের বেনাপোল বন্দরে নথিপত্রহীন পণ্য জব্দের পর পাচার, অভিযুক্ত শেড ইনচার্জ আবুল খায়ের,সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইদুল,আনোয়ার ও রাসেল এখনো বহাল তবিয়তে রংপুরে ‘লাক্সারি চাইনিজ অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এর যাত্রা শুরু ঠাকুরগাঁওয়ে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠিত ইউএনও রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে পোরশা মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবীশ এনামুল আওলাদ আয়নাল আকিবদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ

মোহাম্মদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকলনবীশ এনামুল আওলাদ আয়নাল আকিবদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪১ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিস দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালচক্রের কবলে পড়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। জমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি পেতে এসে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে প্রয়োজনীয় নথি হাতে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।


‎সম্প্রতি এই অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নকলনবীশ এনামুলের নাম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অফিসটির ভেতরে গড়ে ওঠা একটি “প্রভাবশালী” চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নথি প্রস্তুত ও সরবরাহের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয় কোন ফাইল কত দ্রুত এগোবে এবং কে কত টাকা দিলে কাজ সম্পন্ন হবে।

‎অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, জমির দলিল, নকল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে এক ধরনের অঘোষিত “”মূল্য তালিকা”” চালু রয়েছে। এই তালিকার বাইরে গিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সেবা পাওয়া অসম্ভব বলে জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।

‎তীব্র অভিযোগ রয়েছে, নকলনবীশ এনামুল এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করেন। তার মাধ্যমে ফাইল আটকে রাখা, অযথা ত্রুটি দেখানো এবং দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বাধ্য করার মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ সময়মতো সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হন।

‎ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অফিসে সরাসরি গেলে নানা অজুহাতে দলিল কব্জাবকরে ঘুরানো হয়। পরে নির্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে অথবা সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির সাহেবের সিন্ডিকেটভূক্ত হারিছ, আওলাদ, আকিব, ইউসুফ বা অন্য কারো কাছে গেলে শুধু শুধু সময় নষ্ট হয়,সেরেস্তা খরচ আর বড়সাহেবের নাস্তা বিলের রেট কখনো কমেনা বরং বাড়ে।

‎এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থেকে এনামুলসহ সংশ্লিষ্টরা একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে অফিসের ভেতরের কার্যক্রম কার্যত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এই চক্রের কারণে সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুধু তাই নয় টানা দেড়বছর যাবৎ এনামূল এবং আওলাদের মতো নকলনবিশরা ডাইরিতে একটি শব্দও লিপিবদ্ধ করেননি। কেনো করেননি তা একদিনের জন্যও জানতে চাননি সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির অথবা জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান। যেমন এনামূল আওলাদ সিন্ডিকেটে আইনসঙ্গত স্টাফ সোবহান, বাবু হালদারদের মতো অনেক কর্মীই আওলাদ আকিব এনামূল হারিছ আয়নাল ওরফে ভাগ্নে আয়নাল সিন্ডিকেটের ভয়ে অফিসে ঢুকতে পারেন না।


এই বিষয়টি একাধিকবার সংবাদ শিরোনাম হলেও সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির এবং জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান কখনো বিষয়টি সামনে আনেননি।
তাছাড়া আওলাদের ভাই আকিবের মতো নিয়োগ বিহীন কথিত স্টাফরা কতোকাল গোপনীয় রেকর্ডরুম দাপিয়ে বেড়াবে, কতোদিন দলিলের তথ্য পাচার করবে, আর কতো বছর এরা দাতা গ্রহীতাদের জিম্মি করে দলিল আটকে লুটপাট বাণিজ্য চলমান রাখবে সেসব বিষয়েও অফিস প্রধান থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ” কারো কোনো মাথা ব্যথা নেই”। তাঁরা আছেন শুধু কালেকশনের টাকা থেকে নিজের বখরা বুঝে নিতে মরিয়া।

সম্প্রতি অফিসের মহিলা স্টাফ শিউল জাহানের ড্রয়ার থেকে আওলাদ এনামূল হারিছ গং পে অর্ডারের ২ লাখ টাকার বান্ডিল চাঁদার দাবিতে ছিনিয়ে নিলেও সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির বা জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান দৃশ্যমান ন্যায্য কোনো বিচার করতে পারেননি।


ফলে শিউলি জাহানের অশ্রজল আর বুকের ভীতর নীরব রক্তক্ষরণ এখনো বহমান। আদতেও শিউলী বিচার পাবেন কি-না, না-কি উল্টো এই সিন্ডিকেট শিউলী কে অফিসের টাকা বা দলিলের পাতা লোপাটের অভিযোগ তুলে চোর সাব্যস্ত করে কি-না সেটাই এখন দেখার বিষয়।



‎স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এনামূল আওলাদ সিন্ডিকেট এমন রক্তপিপাসু চরিত্র বলবৎ রাখলে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সাধারণ মানুষের জন্য জমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ ভয়াবহ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে তলিয়ে যাবে।

‎এমন পরিস্থিতিতে IRO মোহাম্মদ মতিউর রহমান এবং IGR ( মহা পরিদর্শক নিবন্ধন) শামীমা আফরোজ মহোদয়ের কঠোর হস্তক্ষেপ ও দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের আকষ্মিক অভিযান কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা