• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
Headline
ঘুষ-দুর্নীতির ভারে ভারাক্রান্ত রাবিপ্রবি,সমালোচনায় সাবেক ভিসি আতিয়ার রহমান সেবার নামে প্রহসন,১৫ মাসে সাড়ে ৭ হাজার মামলা, আড়াই কোটি টাকা আয় পদ্মা ব্যারেজের পিডি নিয়োগে ‘হাসান মাহমুদ’ কেন? নেপথ্যে কার সুপারিশ?? গার্ড অব অনার ও পুষ্পস্তবক অর্পণে বীরশ্রষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখকে বিজিবির শ্রদ্ধা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের উপস্থিতিতে জন্মদিন উদযাপন করলেন আরিফ খান রংপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে বারবার হামলা, পুলিশের পক্ষপাতের অভিযোগ এমপি নোমানের অনুষ্ঠানে সাংবাদিককে শাসালেন বিএনপি নেতা রাসেল বেরোবিতে নির্মাণসামগ্রীর ট্রাক আটকে চাঁদাবাজির অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৪ চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদকাসক্ত গ্যাং স্টারদের টার্গেটে এবার বৃদ্ধা রাবেয়া

BRTA মেট্রো সার্কেল-৪ এর ঘুষ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড উচ্চমান সহকারী হারুন

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক / ৮২ Time View
Update : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, ঢাকা:

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৪ (পূর্বাঞ্চল) অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ বাণিজ্যের এক অঘোষিত সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ৷ আর এই সিন্ডিকেটের মুকুটহীন সম্রাট উচ্চমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হারুন অর রশিদ হারুন। হারুন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ টাকা সহকারী পরিচালক ছাত্রলীগের সাবেক পেতাত্মা রফিকুল ইসলামের টেবিলে যথাসময়ে পৌঁছে যাওয়ার কারণে তিনিও রয়েছেন নিশ্চুপ।
অভিযোগকারীদের দাবি, হারুন দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন যানবাহন সক্রান্ত সেবা প্রদানের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করছেন এবং এই অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগাভাগি হয়। ফলে অফিসের ভেতরে একটি অঘোষিত ‘ক্যাশ কাউন্টার’ ব্যবস্থা চালু হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করছেন।

ভূক্তভোগী গ্রাহকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিআরটিএর এই অফিসে গিয়ে সরাসরি সরকারি নিয়মে কাজ করাতে চাইলে নানা ধরনের জটিলতার মুখে পড়তে হয়। কখনো বলা হয় কাগজপত্র অসম্পূর্ণ, কখনো আবার নতুন কোনো নিয়ম বা মনগড়া শর্তের কথা বলে আবেদনকারীকে কয়েকদিন পর আবার আসতে বলা হয়। কিন্তু একই কাজ অফিসের গেটের বাইরে অবস্থান করা হারুনের দালালদের মাধ্যমে করলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন হয়ে যায়। এ কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালদের শরণাপন্ন হন। অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে মূল সমন্বয়কারীর ভূমিকায় রয়েছেন উচ্চমান সহকারী হারুন ইসলাম। এভাবে অর্জিত অবৈধ অর্থের একটি বড় অংশ অফিসের ভেতরে পৌঁছে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই অর্থ সংগ্রহ ও বণ্টনের পুরো বিষয়টি তদারকি করেন হারুন ইসলাম নিজেই।

সূত্র বলছে, বর্তমানে তিনি ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৪ এ দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শক অসীম পালের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন যানবাহন সংক্রান্ত কাজ—যেমন রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, মালিকানা পরিবর্তন, কাগজপত্র সংশোধনসহ নানা ধরনের সেবার ক্ষেত্রে দালালদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অর্থের বিনিময়ে অনেক সময় নিয়মবহির্ভূত কাজও সহজে সম্পন্ন হয়ে যায়।

অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হারুন ইসলামের মুখে সবসময় একটি রহস্যময় হাসি লেগে থাকে। অনেকেই বলেন, তার আচরণ খুব শান্ত ও স্বাভাবিক হলেও কাজের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী। অফিসের ভেতরে তার কথার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। ফলে অনেকেই মনে করেন, দালালদের মাধ্যমে যে অর্থ লেনদেন হয় তার পেছনে শক্তিশালী একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, হারুন ইসলামের চাকরির শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব এবং দালাল সিন্ডিকেটের শক্তি বেড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি নিয়মে কাজ করানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। এ কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে দালালদের মাধ্যমে কাজ করাতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করছেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, তারা প্রথমে সরাসরি অফিসে গিয়ে আবেদন করেন। কিন্তু বারবার নানা অজুহাতে তাদের ঘোরানো হয়। কখনো বলা হয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নেই, কখনো আবার বলা হয় ফাইল ঠিক নেই বা কাগজপত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু একই কাজ দালালের মাধ্যমে দিলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাধান হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ বুঝে যান যে পুরো ব্যবস্থার ভেতরে একটি অঘোষিত নিয়ম চালু রয়েছে।

জানা গেছে, জীকু, জাহাঙ্গীর, মনির, শাহাদাত, সুলতানসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই দালাল চক্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তারা মূলত অফিসের গেটের সামনে ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করে সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্থানীয়ভাবে তারা ‘গেটিস’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তাদের সঙ্গে অফিসের ভেতরের কয়েকজন কর্মচারীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে এবং এই যোগাযোগের মাধ্যমেই পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।

হারুনের যত অবৈধ সম্পদ:

এদিকে হারুন ইসলামের ব্যক্তিগত সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একজন সাধারণ সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তার জীবনযাপন অনেকটাই বিলাসবহুল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি রাজধানীর সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেনপাড়া পর্বতা এলাকার ৪২৯/এ নম্বর ভবনে প্রায় দুই হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে। বর্তমানে তিনি সেখানেই বসবাস করছেন বলে জানা যায়। এলাকাবাসীর মতে, সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে এত বড় সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিস্ময় রয়েছে।

হারুন ইসলামের অতীত কর্মস্থল নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, তিনি একসময় মিরপুর-১৩ নম্বর বিআরটিএ কার্যালয়ের ১১৪ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালন করতেন। সেই সময়ও দালালের মাধ্যমে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তাকে সিলেট মেট্রো সার্কেলে বদলি করা হয়।

তবে সিলেটে বদলি হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবার ঢাকায় ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, এই ফিরে আসার পেছনে গোপনসিঁড়িতে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন হয়েছিল।

প্লেনে যাতায়াতে বিষ্মিত সবাই:

সিলেটে কর্মরত থাকাকালীন সময়েও তার জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একজন উচ্চমান সহকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত বিমানে যাতায়াত করতেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের মতে, একজন সাধারণ সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে এত ব্যয়বহুল জীবনযাপন করা স্বাভাবিক নয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে তখনও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়।

অফিসের ভেতরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, একজন উচ্চমান সহকারীর পক্ষে এত সম্পদের মালিক হওয়া অস্বাভাবিক। তারা মনে করেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তাদের মতে, বিআরটিএ অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দালাল চক্র সক্রিয় থাকায় সাধারণ মানুষ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অনেক সময় সরকারি নিয়মে কাজ করতে গিয়ে মানুষকে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে দালালদের দ্বারস্থ হন, যা দুর্নীতির একটি চক্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

সচেতন মহলের মতে, সরকারি সেবা খাতে এ ধরনের অনিয়ম শুধু জনগণের ভোগান্তিই বাড়ায় না, বরং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে। তাই এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা জরুরি।

এ বিষয়ে হারুন ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করাই তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা