• শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
Headline
ছাত্র শাসনের নামে কৃষ্ণনগর মাক্কীনূর মাদ্রাসার এক পাষণ্ড শিক্ষকের নির্মম ও নিষ্ঠুর বেত্রাঘাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ আতঙ্ক  শিক্ষায় সাফল্যের স্বীকৃতি: খুলনা বিভাগের সেরা মাসুদুর রহমান সাড়ে ১৯ কেজি গাঁজা’সহ ৪জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফকে প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির সংবর্ধনা জীবননগরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত চুয়াডাঙ্গায় ইয়াবা সেবনের দায়ে কথিত সাংবাদিক মাসুরা টুনির ৬ মাসের কারাদণ্ড যশোরে বিএনপি ২ নেতার সাথে পুলিশের বাগবিতণ্ডা, তল্লাশি না করেই দুইজনকে ছাড়িয়ে নিলেন সহকর্মীরা মহম্মদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক নেতা A.R টুটুলের বহিস্কার বিষয়ে দুটি কথা শ্বেতগঙ্গা খালখননে হরিলুট,নেপথ্যের কারিগর পানিসারা ইউপি সচিব ফরহাদ হোসেন কেন্দ্রীয় সাইবার দলের সহ-প্রচার সম্পাদক হলেন সাংবাদিক মেহেদী হাসান রিয়াদ

দুর্নীতি আর লুটপাট বাণিজ্যের মাস্টারমাইন্ড সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিব দাশ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম ও ঢাকা / ৪০ Time View
Update : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬

ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যের সমার্থক শব্দ ইঞ্জিনিয়ার রাজিব দাশ। তাঁর সাথে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ শক্তিশালী সিন্ডিকেট। পিডি হিসেবে ডাকডাাশডততাডবিভিন্ন প্রজেক্টে দায়িত্ব পালন াচঢডকরে াাহয়েছেন ডডহাজার াাাাাাডঢাডতডাতডঢাআডাডাাডাাতাডচাততাাডগতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। ডমাতৃকূল আর শ্বশুরকূলে নিকটজনদের নামেও গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। তাঁর বিরুদ্ধে আছে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ । ইতোমধ্যে কলকাতার সল্টলেক আর সায়েন্স সিটিতে গড়ে তুলেছেন সেকেন্ড হোম।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী নেতা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড এর স্বাধিকারী বাবু দীলিপ কুমার আগরওয়ালার হুন্ডির মাধ্যমে এসব টাকার অধিকাংশ পাচার হয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। তাঁর নামে দুদকে একাধিক অভিযোগ জমা হলেও কোনাটাই পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা পায়নি। মোটা অংকের উপঢৌকন ও গোপনসিঁড়ি ব্যবহার করে তিনি এসব দুদক রিপোর্ট ধাপাচাপা দিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। সচেতন মহল ও তাঁর অফিস কলিগদের একাংশের অভিমত তাঁকে ওএসডি পূর্বক কঠোর বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনাটা এখন সময়ের দাবি। এছাড়া তাঁর ই-পাসপোর্ট জব্দ করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন অনেকেই।

রাজিব দাশের লুটপাট বাণিজ্যের কিঞ্চিৎ নমুনা:

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে ‘কালুরঘাট-চাক্তাই সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প’ এখন দেশের উন্নয়ন নয়, বরং দুর্নীতির এক ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প আট বছর যাবৎ সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পরিকল্পিত লুটপাটের ছকে এর ব্যয় ফুলেফেঁপে দাঁড়িয়েছে ২,৭৭৯( দুই হাজার সাতশো ঊনআশি) কোটি টাকায়। যেখানে সাধারণ মানুষের আশা ছিল নদী ঘেঁষা একটি আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা—সেখানে এখন আছে শুধু ধুলা, ভাঙা ব্লক আর পলিথিনে ভর্তি বালুময় মিনি মরুভূমি। এই প্রকল্পটির নেতৃত্বে রয়েছেন সিডিএর প্রকল্প পরিচালক রাজীব দাশ এবং কোয়ালিটি কন্ট্রোলার ও সরঞ্জাম তদারক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব অর্পিত হয় জসিম উদ্দিন এর কাঁধে। তবে তদারকী বা গুণগত মান নিয়ন্ত্রন নয়, রাজিব ও জসিমের লুটপাট বাণিজ্যে এই প্রোজেক্ট শুরু থেকেই পরিণত হয় অপচয় ও আত্মসাৎ বাণিজ্যের অভয়ারণ্যে।। ফলে এই একটি প্রজেক্ট থেকেই লুটপাট করা হয় হাজার কোটি টাকা।

মানহীন কাজে ধারাবাহিক অনুসন্ধানে উঠ আসে পিলে চমকানো তথ্য। এই সড়কের নিচে ব্যবহৃত লোহার পাইপগুলো মরিচা ধরা, মানহীন। বালুর সঙ্গে মেশানো হয়েছে পলিথিন ও কাদা—যা ভবিষ্যতে রাস্তায় ধ্বসের কারণ হতে পারে। এলাকাবাসীরা জানান, “ক্যামেরা আসলেই রাজিব বা জসিমের নির্দেশে সব পলিথিন সরিয়ে ফেলা হয়।” আর টাকা দিয়ে সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে শুরু থেকেই। স্পষ্টতই এটি একটি সংগঠিত ‘প্রমাণ মুছে ফেলা’র অপরাধমূলক প্রক্রিয়ার নগ্ন বহি:প্রকাশ।

মাননিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ভয়াবহ রূপে প্রশ্নবিদ্ধ:

প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই-বাছাই ও তদারকির দায়িত্বে থাকা জসিম শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দালালে পরিণত হন রাজিব দাশের নির্দেশে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের কাজের মান পরীক্ষার পরিবর্তে কাগজে কলমে কল্পিত রিপোর্ট লিখে জমা দিয়েছেন। “স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিঃ” দেশের একটি কালো তালিকাভূক্ত শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান,আর স্পেক্টার মালিক দিদার হোসেন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। তবুও এই প্রতিষ্ঠানকে রাজিব দাশ কাজ পাইয়ে দেয় বড়ো ধরনের অগ্রীম গ্রহণ ও বিশেষ সমঝোতার মাধ্যমে। এই প্রকল্পের প্ল্যানে উল্লেখিত কালভার্ট বাদ দিয়ে কোথাও কোথাও স্থাপন করা হয়েছে সরাসরি ড্রেনেজ পাইপ, ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মুন্না সহ অনেকেই বলেন, “জসিম নিজের ইচ্ছামতো ক্ষণেক্ষণে প্ল্যান পাল্টায়। এলাকাবাসী কথা বললে বা মানহীন মালপত্রের বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই মামলা দেয়ার ভয় দেখায়।” আর এসব নোংরামি সম্ভব হয়েছে মহা দুর্নীতিবাজ প্রকল্প পরিচালক রাজিব দাশের মৌন সম্মতিতে।

ভূমি অধিগ্রহণে ভয়াবহ জালিয়াতি:

শুরু থেকেই ভূমি অধিগ্রহণে হয়েছে ভয়াবহ দুর্নীতি। সরকারি নীতিমালার ২০১৭ সালের ‘অর্জন ও অধিগ্রহণ আইন’ অনুসারে, ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যূনতম বাজারমূল্যসহ অতিরিক্ত ৩০০% ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে একাংশ পেয়েছে ১২-১৪ লাখ, আর গরিবরা পেয়েছে ২-৩ লাখ। কিছুক্ষেত্রে কোনো লিখিত রসিদ বা কাগজপত্র ছাড়াই টাকা দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া পতিত ও ডোবানালাকে ভিটা জমি এবং ভিটা-জমিকে বাণিজ্যিক প্লট দেখিয়ে সরকারি খাতে শত-শত কোটি টাকা লুটে নেয় রাজিব দাশ।

স্পেক্টার ইনচার্জ অসীম কুমারের ঘাপলা:

উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা তছরুপ করেও এই চক্র যেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ঠিকাদার স্পেক্ট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ইনচার্জ অসীম কুমার বাবুর বিরুদ্ধেও রয়েছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ—নিম্নমানের কাজ, বিল কেলেঙ্কারি এবং রড-বালু সরবরাহে ঘাপলা। স্থানীয় শ্রমিকরা জানিয়েছেন, অসীম নিয়মিতভাবে মানহীন উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেন এবং একাধিক অনিয়ম ধামাচাপা দেন প্রকল্প পরিদর্শনকালে।

কালো দৃষ্টান্ত:

পর্যটন সম্ভাবনাময় এই এলাকায় নেই কোনো নিরাপত্তা, আলো বা চলাচলের সঠিক ব্যবস্থা। সন্ধ্যার পর এলাকা জনশূন্য হয়ে পড়ে। যেটি হতে পারত চট্টগ্রামের ‘মেরিন ড্রাইভ’, তা এখন পরিণত হয়েছে অপরিকল্পিত খরচ ও অপচয়ের ‘কালো দৃষ্টান্তে’। সরকারপ্রদত্ত অর্থ ব্যবহারে এমন উদাসীনতা চট্টগ্রামের মানচিত্রকেই কলঙ্কিত করছে।

জনসাধারণকে বঞ্চিত:

প্রকল্পে নিয়োজিত এই রাজিব,জসিম-অসীম গং’ কেবল জনগণের টাকা আত্মসাৎ করেনি, বরং ভয়ভীতি দেখিয়ে জনগণকে বঞ্চিত করেছে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—দুর্নীতির মাধ্যমে এই দুই কর্মকর্তা অর্জন করেছেন বিশাল অংকের অর্থ ও সম্পদ। তাদের নামে একাধিক গাড়ি, ফ্ল্যাট, এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মালিকানা পাওয়া গেছে, যা তাদের ঘোষিত আয় ব্যয়ের বাইরে।

দুদকের সব অভিযোগ ধামাচাপা ??

এই দুর্নীতিতে যুক্ত রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মাস্টারমাইন্ড রাজীব দাশ। তাঁর বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন কমিশনে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সিডিএ’র একাধিক কর্মকর্তা এই দুর্নীতির ছায়াতলে কাজ করছেন—তাদের অনেকের বিরুদ্ধে দুদকে তদন্ত চলমান রয়েছে। এর ফলে সিডিএ এখন পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তবে রাজিব দাশের বিরুদ্ধে দুদকে উত্থাপিত সকল অভিযোগ ধামাচাপা দিতে তিনি গোপনসিঁড়ি ব্যবহার করে বিভিন্ন উপঢৌকনে কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে বাংলাদেশের দণ্ডবিধি ৪০৯ ধারা অনুযায়ী, “সরকারি অর্থ বা সম্পত্তির তছরুপে জড়িত কর্মকর্তা”র সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬ ও ২৭ ধারা অনুসারে, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এলাকাবাসীর দাবি—রাজিব দাশ, জসিম, অসীম গংদের আইনের আওতায় এনে উদাহরণ তৈরি করতে হবে, না হলে দেশের অন্যান্য প্রকল্পগুলোও ভয়াবহ দুর্নীতিতে মুখথুবড়ে পড়বে।।

 

 

( আগামীকাল আরও বিস্তারিত পড়ুন প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে) ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা