
ঢাকা রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সের মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস এখন বহিরাগত নিয়োগপত্র বিহীন অবৈধ কামলাদের চাকরি করে টাকা কামানোর নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
তেমনি মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের গোপনীয় রেকর্ড রুমে যখন তখন তালা খুলে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র ঘাঁটাঘাঁটি ও কাগজপত্র বাইরে পাচার করছে আওলাদ হোসেনের ভাই আকিব সহ নিয়োগ বিহীন তিন বহিরাগত কামলা। কার সাহসে এরা গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডরুমে প্রবেশ করছে, তাদের কাছে এই অফিসের জমি ও ফ্লাট মালিকদের মূল্যবান দলিলপত্র কতোটা নিরাপদ সেসব বিষয়ে পুরোটাই বে-খবর সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির।
এই অফিসের সিন্ডিকেট প্রধান আওলাদ হোসেনের ভাষ্য আমার ভাই আকিব সহ কেউ এখানে অবৈধ নয়, তাদের কে মৌখিক নিয়োগ দিয়ে প্রতিদিন ১২ পাতা করে নকল লেখার কাজ দেওয়া হয়েছে। অথচ এদের কারো কাছে ডায়েরি নেই, নেই নকল লেখার লিগ্যাল প্রমাণ, সারাক্ষণ এরা সময় কাটাচ্ছে রেকর্ড রুমে।
অথচ সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির, সহকারী হারিছ,সিন্ডিকেট প্রধান আওলাদ হোসেন, আওলাদের ভাই আকিব, সবুজ, নকলনবিশ আমিনুল,বহিরাগত ইউসুফ হাওলাদার,ইমরান হোসেন, আইনাল হোসেন ও মোস্তফা কামালদের বিষয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলেও রহস্যজনক কারণে জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান রয়েছেন ঠুঁটোজগন্নাথ হয়ে।
এম্নিতেই মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস বহু আগে থেকেই রয়েছে আলোচনা সমালোচনায়৷ বিশেষ করে ঘুষ দুর্নীতির বরপুত্র সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির এই অফিসে যোগদানের পর থেকেই ঘুষ দুর্নীতি বেড়েছে কয়েকগুণ। সাব রেজিস্ট্রারের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও প্রতি বৃহস্পতিবার প্লেনে ঢাকা টু সিলেট আর রবিবার সকালের ফ্লাইটে সিলেট টু ঢাকার টাকা যোগাড় করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের পকেট কেটে।

আর মোহাম্মদপুর অফিস থেকে তার টার্গেট না-কি ৫০ থেকে ৬০ কোটি। সে মিশনে তিনি বেশ এগিয়েও গেছেন। তবে কতোদিনের মাথায় তিনি এই টার্গেট পূরণ করতে পারবেন সেটাই অবসর সময়ে আওলাদ হারিছ গংদের গোপন আলোচনার বিষয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লুটেরা সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদিরের টাকার মিশন সাকসেস করতে তাঁকে সার্বক্ষণিক সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে সহকারী হারিছ, নকলনবিশ আওলাদ হোসেন এবং কালেকশন বস্ আওলাদের ভাই কথিত উমেদার আকিব হোসেন, ইউসুফ হাওলাদার, মোস্তফা কামাল, ইমরান হোসেন ও আইনাল হোসেন। এতগুলো মানুষ অবৈধভাবে আওলাদ হোসেন ও হারিছের ব্যক্তিগত প্রভাবে নিয়োগপত্র বিহীন চাকরি করলেও সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির আজপর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি। তিনি ডুবে আছেন অবৈধ টাকা হাতানোর একমাত্র নেশায়।
রাজধানীর মহামূল্যবান জমির রেকর্ডপত্র মোস্তফা কামাল ও ইমরান হোসেন যখন-তখন রেকর্ড রুমের তালাচাবি খুলে হাতড়াতে থাকে। এদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই গোপনীয় রেকর্ডের তথ্য পাচার, ওভার রাইটিং ও এনআইডি পরিবর্তন করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
নিয়োগপত্র বিহীন এসব উটকো লোকের কাছে চাবি থাকাই গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের গোপনীয়তা হরহামেশাই হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের।। মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রতি মাসে ৩ কোটি টাকা করে হাতানোর মিশনে ভীষণ ব্যস্ত BRSA’ র নেতাদের বাইপাস করে সরাসরি আইন উপদেষ্টাকে উপঢৌকন দেওয়া আঃ কাদির। আর তাই দলিল ৫% থেকে ১০% হারে টাকা বুঝে নিয়ে তিনি দলিলে স্বাক্ষর করেন।
সাব রেজিস্ট্রার এর নির্দেশ মোতাবেক টার্গেটের টাকা হারিছ, আওলাদ, আকিব, মোস্তফা ও ইমরানরা যে কেউ হাতানোর পর দলিলের মাথায় দেয় বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন। সেসব দলিল সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির স্বাক্ষর করেন খোশমেজাজে, উৎফুল্লচিত্তে।
আর যেসকল জমি দাতা গ্রহীতা মুখের উপর বলে ফেলেন সরকারী ফিস ছাড়া একটি টাকাও অতিরিক্ত দিবেন না– তাহলে সেসব ভুক্তভোগীদের ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। আর কারণ হিসেবে মনগড়া হাজারো সমস্যা উত্থাপন করেন কথিত ক্যাশিয়ার গং।
আবার সাব রেজিস্ট্রারের টার্গেট মোতাবেক নজরানা দিতে পারলে হাজারো সমস্যাযুক্ত এসব দলিল ১৫ মিনিটের মধ্যেই নিষ্কণ্টক হয়ে রেজিষ্ট্রেশন হয়ে যায় চোখের পলকে।
মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘ দেড়বছর একাধিক স্টাফ কেনো অনুপস্থিত? কেনো বহিরাগতদের হাতে রেকর্ড রুমের চাবি ? DIGR মহোদয় ঝটিকা অভিযান চালালেই সব দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট হয়ে ধরা দিবে।
( আরো বিস্তারিত পড়ুন আগামীকাল প্রিন্ট ও অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্মে )