যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে বালু কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মামুন হাসান জুয়েল নামে এক পুলিশ সদস্য ও তার আত্মীয় আব্দুল বারিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুল বারিক শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ভুক্তভোগী মামুন হাসান জুয়েল উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ হেডকোয়ার্টারে কর্মরত রয়েছেন।
জুয়েল জানান, তার পিতার রাজগঞ্জ মাঠে থাকা বালুর ব্যবসা দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিক্রি করতে দিচ্ছেন না। সম্প্রতি তার পিতা মশিয়ার রহমান বালু বিক্রির উদ্যোগ নিলে স্থানীয়রা বাধা দেন। একই সঙ্গে শ্যামলাগাছি গ্রামের মিন্টু নামে এক ব্যক্তি রাজগঞ্জের মুকুলকে দিয়ে তার পিতার কাছে ১০ লাখ টাকা পাওনার দাবি তোলেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জুয়েলের দাবি, এ বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করার কারণেই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, গত ২৯ মে বিকেল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে শার্শার উদ্দেশ্যে রওনা হলে স্থানীয় মিন্টু মেম্বারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার পথরোধ করে।
এ সময় তাকে জিআই পাইপ ও বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। পরে তার ফুফা আব্দুল বারিক ঘটনাস্থলে এসে প্রতিবাদ জানালে হামলাকারীরা তাকেও ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুষি মেরে সরিয়ে দেয়।
অভিযোগে হামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে শ্যামলাগাছি গ্রামের আব্দুল সালামের ছেলে সুজন (২২), সবুজ হোসেন (৩৮) এবং আব্দুল মাজেদের ছেলে লাটু (৩৩) ও পিন্টু (৩৬)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে শার্শা থানার এসআই আলামিনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেলে কিছু লোক পুলিশের সামনেও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর আব্দুল বারিক শার্শা থানায় অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নং-১৪৯৮, তারিখ: ২৯/০৫/২০২৬)। তবে পুলিশ সদস্য জুয়েল এখনো কোনো নিয়মিত মামলা দায়ের করেননি বলে জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, তারা স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের হুমকির মুখে রয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে শার্শা থানার এসআই আলামিন বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে গেলে কিছু উশৃঙ্খল লোকজন মব তৈরির চেষ্টা করেছিল। পরে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছে।”
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “শ্যামলাগাছির ঘটনায় আব্দুল বারিক একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা