নেত্রকোনা জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল খালেক প্রতি মাসে দেড় কোটি টাকার বেশি আয় করেন বলে জানা গেছে। তার অধিনস্ত সাব রেজিস্ট্রার অফিস আছে ১০ টি। এগুলো হলো নেত্রকোনা সদর,বারহাট্টা,দুর্গাপুর, কলমাকান্দা,মোহনগঞ্জ,মদন,খালিয়াজুরী, কেন্দুয়া,পূর্বধলা ও আটপাড়া।
জেলার অধীনস্থ এই ১০ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে তিনি দলিল প্রতি ২০০ টাকা, দলিলের নকল প্রতি ২/৩শ টাকা হারে তাঁর প্রধান সহকারীর মাধ্যমে আদায় করে থাকেন। এই ১০ অফিসে প্রতি কর্মদিবসে দলিল সম্পাদন হয় প্রায় ১৫শ। সম্পাদনকৃত দলিল ও নকল উত্তোলন থেকে জেলা রেজিস্ট্রার এর হাতে এসে প্রতিদিন জমা হয় ৬ লক্ষ টাকা। সপ্তাহের ৫ কর্মদিবস তথা মাসে ২০ কর্মদিবসে তিনি পান প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এরমধ্যে প্রধান সহকারী সহ অফিস স্টাফদের কিছু দিয়ে এবং মোটা অংকের টাকা আইজিআর অফিস ম্যানেজের নামে দেখিয়ে বাকি সমূদয় টাকা তিনি তুলে নেন নিজের ঝুলিতে।
এছাড়া নিকাহ রেজিস্ট্রার(কাজী) ও দলিল লেখকদের লাইসেন্স নবায়নের নামে উপরি আয় হয় কোটি টাকা।
এছাড়া মোহরার থেকে অফিস সহকারী ও নকল নবীশদের পদোন্নতি ও বদলির নামেও তিনি তাঁর অধিনস্ত সহকারীর মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন বলে অনুসন্ধানে জানা যায়।।
জেলা রেজিস্ট্রারের নানা দুর্নীতি-অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তার অধীনস্থ কারো মূখ খোলার সাহস নেই বলে প্রতিবাদ করার কেউ না থাকায় অনেকটা বেপরোয়া এখন তিনি। সংক্ষুদ্ধ ও বঞ্চিত একটি পক্ষ এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে ন্যায় বিচার পেতে দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এভাবে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিরীক্ষা ও পরিদর্শনের(অফিস ভিজিট) এর ক্ষেত্রেও তিনি ১/২ লাখ টাকা দক্ষিণা গ্রহণ করে থাকেন।
নেত্রকোনা জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল খালেক ১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৯ সালে রংপুরে জন্মগ্রহণ করেন। সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকরি জীবনে তিনি যে একেবারে ধোয়া তুলসীপাতা ছিলেন তাও নয়। অনেক তদবির দেন-দরবার আর উপঢৌকনের বিনিময়ে ২২শে ডিসেম্বর ২০১৯ সালে তিনি জেলা রেজিস্ট্রার হিসেবে প্রথম পদায়ন লাভ করেন নোয়াখালীতে। সেখানেও কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিয়ে তিনি বদলি হন নেত্রকোনাতে। ইতোমধ্যে তিনি নামে বেনামে গড়েছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। তিনি ২০৩৮ সালে অবসর যাবেন বলে জানা গেছে। সামনের এই ১২ বছর মাসে ১ কোটি হিসেবেও যদি তাঁর ঝুলিতে জমা পড়ে তাহলেও তিনি ঠান্ডা মাথায় আরো দেড়শো থেকে ২শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হতে পারবেন বলে আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ও সচেতন মহল এমনটিই মনে করেন।।
ঠান্ডা মাথার মাস্টারমাইন্ড খ্যাত জেলা রেজিস্ট্রার আ: খালেকের ঘুষ দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে এবং তার স্থাবর অস্থাবর সম্পদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে “দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম” এর ঝটিকা অভিযান কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।।