তাঁর হাতে যেনো আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপ। জিরো থেকে হয়েছেন সুপার হিরো। মধ্যম সারির বেতনে চাকরি করে হয়েছেন নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। এসব অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় এলাকাবাসী ও নিকট আত্মীয়স্বজনদের। কানাঘুষা আছে তাঁর অফিসের অভ্যন্তরেও।
ইতোমধ্যে বেনাপোল কাস্টমসে কর্মরত সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রাসেল কবিরের বিপুল সম্পদের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনাো তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তুলনামূলক স্বল্প বেতনের চাকরি করেও তিনি নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হন কীভাবে??
অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনা ও বেনাপোলে রাসেল কবিরের একাধিক বাড়ি, জমি ও প্লট রয়েছে।
খুলনার মুজগুন্নী আবাসিক এলাকায় কেডিএ’র ৪ কাঠার একটি প্লটের ওপর নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের কাজ চলছে, যার সম্ভাব্য বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি, বাগানবাড়ি ও জমির তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার সরকারি বেতন সাধারণত ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্থানীয়দের প্রশ্ন— এই বেতনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের পর এত বিশাল সম্পদের মালিক হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
রাসেল কবির অবশ্য গণমাধ্যমের সামনে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, পরিবারের সবার বিনিয়োগে সম্পদ গড়ে তোলা হয়েছে এবং তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করতে তাঁর কতিপয় অফিস কলিগদের প্ররোচনায় একটি সংবাদমাধ্যম মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে । তবে বাগানবাড়ির জমির বিষয়ে তিনি আংশিক সত্যতা অকপটে স্বীকার করেছেন।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের বষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল । বাংলাদেশে অতীতেও বিভিন্ন কাস্টমস কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা, কারাদণ্ড ও সম্পদ জব্দের ঘটনা ঘটেছে। এবার হয়তোবা লাইমলাইটে এসে গেছেন রাসেল কবির।
তাই আমাদের বিশ্বাস দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে বেনাপোলের এই রাজস্ব কর্মকর্তার স্থাবর অস্থাবর সম্পদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করুক।
তবে এই নিউজের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রশ্নে রাজস্ব কর্মকর্তা রাসেল কবির ফোন রিসিভ না করাই তাঁর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।।