
রংপুর নগরীর ধাপ জেল রোড এলাকায় অবস্থিত নিউ সোনার বাংলা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার জবরদখল, মালামাল আত্মসাৎ ও চলমান ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুর এর মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাসপাতালের কো-অর্ডিনেটর মো. মাহফুজার রহমান বিপ্লব।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়,
প্রায় ২৫ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটি ভবন মালিক এবিএম মনিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের “সন্ত্রাসী কায়দায়” দখলচেষ্টার শিকার হয়েছে। এতে হাসপাতালের প্রায় ১৫০ জন কর্মচারী কর্মহীন হয়ে প্রায় দেড় বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভবনটি ১১ মাস মেয়াদি চুক্তিতে ভাড়া নিলেও পরে ২৫ লাখ টাকার জামানত ও প্রায় ৪৫ লাখ টাকার সংস্কার ব্যয় ফেরত না দিয়ে ভবন মালিক আদালতে উচ্ছেদ
মামলা দায়ের করেন। এ নিয়ে ঢাকার দায়রা জজ আদালতে আরবিট্রেশন মামলা ও পরবর্তীতে হাইকোর্টে আপিল মামলা হয় যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভবন মালিক পূর্বেও বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সঙ্গে একই ধরনের বিরোধে জড়িয়েছেন। নিউ সোনার বাংলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ৫৮ দিন প্রতিষ্ঠানটি অচল রাখা হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১১ মে রাতে ভবন মালিক ও তার সহযোগীরা অস্ত্রধারী লোকজন নিয়ে হাসপাতালে হামলা, ভাঙচুর ও কর্মচারীদের মারধর করেন। একই সঙ্গে হাসপাতাল তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয় এবং একটি জিপ গাড়ি জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।
এ ঘটনায় আদালতে সিআর-৯১২/২০২৫ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানানো হয়। বর্তমানে ভবনের ভেতরে প্রায় ১০ কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম, কাগজপত্র ও ব্যাংক চেক অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, উভয় পক্ষের মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও ভবন মালিক হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ভেঙে সংস্কার করে নতুন ভাড়াটিয়াকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এতে আদালতের নির্দেশনা অমান্যের শামিল হয়েছে বলে দাবি করেন বক্তারা।
এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধাপ ফাঁড়ির এসআই জিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে গড়িমসির অভিযোগও তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
তবে এবিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিয়া উদ্দিন খুব অল্প সময়ে আদালতে প্রতিবেদন দেয়ার কথা প্রতিবেদককে জানান।