ঢাকার তেজগাঁও রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্স সহ গোটা রাজধানী জুড়ে এ নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক ও নিন্দার ঝড়। এসব খবর কিছুই জানেন না অফিস প্রধান সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির।
ইতোমধ্যে এই ত্রিরত্নের নামে ডিএমপি কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন একই অফিসের অসহায় মহিলা নকলনবিশ ভূক্তভোগী শ্রাবণী জাহান। এই তিনজন ছাড়াও সহকারী হারিছ ও আওলাদের ভাই নিয়োগপত্র বিহীন কথিত উমেদার আকিব হোসেন ছিনতাইকৃত টাকার ভাগ ৪০ হাজার করে বুঝে পেলেও রহস্যজনক কারণে তাদের দু’জনের নাম মামলায় লিপিবদ্ধ হয়নি।
ঢাকা জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাব রেজিস্ট্রি অফিসের অভ্যন্তরে
সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের এই দায়িত্বহীনতা একজন অসহায় মহিলা স্টাফের জন্য যেমন অপমানজনক তেমনি সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের জন্য এই ঘটনা হয়ে থাকবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার চুড়ান্ত বহিঃপ্রকাশের নগ্ন দলিল হয়ে। এসব ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ঢাকা রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সের হাজারো দলিল লেখক, রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে কর্মরত স্টাফদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ তুলে নিতে আওলাদ, ইমরান,মোস্তফা ও আকিবের ভাড়াটে লোকজন দফায় দফায় শ্রাবণী জাহানের বাংলা লিংক নাম্বার হোয়াটসঅ্যাপ ও ইমোতে কল করে লাগাতার হুমকি ধামকি অব্যহত রেখেছে। এর ফলে শ্রাবণী জাহানের ঈদ আনন্দ কপ্পুরের মতো হাওয়ায় মিশে গেছে, প্রাণনাশ ও অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় শ্রাবণী জাহান নিজগৃহে নিজেকেই এখন গৃহবন্দী করে রেখেছেন।
নিজ অফিসের কলিগদের মাধ্যমে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত শ্রাবণী জাহান একজন দায়িত্বশীল অভিজ্ঞ নকলনবিশ, যিনি অনেক বছর ধরে কাজ করছেন মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে।
বিশেষ উদ্দেশ্যে ২৪/০২/২০২৫ তারিখে শ্রাবণী জাহানের কাজ করার এবং বসার টেবিলটি মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার এর বসার রুমে নিয়ে রেখে দেন মুখোশধারী নকল নবীশ হিসেবে কর্মরত তিনজন সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ গোলাম মোস্তফা, ইমরান হোসেন ও গডফাদার মোঃ আওলাদ হোসেন।
পরবর্তী সময়ে ২৫/০২/২০২৫ তারিখে আগের সাব রেজিস্ট্রার বদলী জনিত কারণে অন্য অফিসে চলে যাওয়ার পর উপরে উল্লেখিত তিনজন নরপিশাচ, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি নামে বর্তমান সময়ে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার অফিসে খুবই আলোচিত ও পরিচিত তারা শ্রাবনী জাহানকে অফিসের ভেতরে জিম্মি করে বলে – আপনি ভেতরে বসে কাজ করতে পারবেন না, যদি কাজ করতে হয় তাহলে আমাদের কে ২,০০০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা দিতে হবে?
একথা শুনে শ্রাবণী জাহান যেনো আকাশ থেকে মাটিতে পড়ে অবাক হয়ে তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে এবং অঝরে কান্না করতে শুরু করে। এরপর শ্রাবণী জাহান কাঁদতে কাঁদতে বলে তোরা আমার ভাই হয়ে বোনের কাছে ২,০০০০০/- টাকা কীভাবে চাইতে পারলি? অনেক সময় তর্কবিতর্ক করার পর একসময় রুম থেকে গোলাম মোস্তফা, ইমরান হোসেন ও গডফাদার মোঃ আওলাদ হোসেন বের হয়ে আসলে এর কিছু সময় পর শ্রাবণী জাহান চোখ মুছতে মুছতে বের হয়ে সরাসরি তার স্বামী মোঃ শরীফুর রহমানকে নিয়ে বাসায় চলে যান।
এরপরও নরপিশাচদের অত্যাচার নির্যাতন ও চাঁদাবাজি থেমে থাকেনি। ঠিক দু’দিন পর ২৭/০২/২০২৫ তারিখ সকালে গোলাম মোস্তফা, ইমরান হোসেন ও গডফাদার মোঃ আওলাদ হোসেন সহ ৪/৫ জন অচেনা সন্ত্রাসী বাহিনী সরাসরি শ্রাবণী জাহানের টেবিলে হামলা করে টেবিলের উপর রাখা সরকারি দলিল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে এদিকে সেদিকে ফেলে দেয়। এসময় শ্রাবণী জাহান তাদেরকে থামাতে গেলে তাকে থাপ্পড় মেরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয়।
কিন্তু গোলাম মোস্তফা, ইমরান হোসেন ও গডফাদার মোঃ আওলাদ হোসেন এই ৩ জন অমানুষের অত্যাচার নির্যাতন সয্য করতে না পেরে অবশেষে থানায় মামলা দায়ের করেন নকল নবীশ শ্রাবণী জাহান।
তবে ভূক্তভোগী সাধারণ জনগণ এবং অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা আর থেমে থাকবেন না তারা প্রয়োজন হলে অনশন করবেন এবং বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশের মাধ্যমে বিষয়টি আইজিআর মহোদয়কে অবহিত করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যহত রাখবেন।