জামালপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়িতা অধিকারীর বিরুদ্ধে ব্যাপক জালজালিয়াতি ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে শুরু থেকেই।
এরআগে একাধিকার তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অধিকাংশ অভিযোগ তিনি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেন বলে জনশ্রুতি আছে। শিক্ষাজীবনে সরাসরি ছাত্রীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত জয়িতা অধিকারীর চাকরিজীবন শুরু হয় হয় আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর সংস্পর্শে। তিনি যখন যেখানে চাকরি করেছেন সেখানেই নিজস্ব ক্ষমতার বলয় সৃষ্টি করে গড়ে তুলেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে তিনি কতিপয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ ক্যাডারদের মাঝে মোটা অংকের টাকা লগ্নী করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
৫ ই আগষ্ট ২০২৪ পট পরিবর্তনের সময় তিনি দিন পনেরো গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও এখন জয়িতা অধিকারী আবারো স্বমহিমায় উদ্ভাসিত।
বর্তমানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের জামালপুর জোনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জয়িতা অধিকারী।বসাম্প্রতিক সময়ে সামগ্রিকভাবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জামালপুরে তাঁর বিরুদ্ধে বদলি-পদায়ন, দরপত্র (টেন্ডার) নিয়ন্ত্রণ ও বিল ছাড়ের ক্ষেত্রে ঘুষ বা দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অত্যন্ত মেধাবিনী ও ঠান্ডামাথার ঘুষ দুর্নীতির মাস্টারমাইন্ড জয়িতা অধিকারী ইতোমধ্যে নামে বেনামে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।
দুর্নীতি-অনিয়ম কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না জামালপুর শিক্ষা প্রোকৌশল অধিদপ্তরে। বিভিন্ন উপায়ে অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, প্রকৌশলীদের অনৈতিক সুবিধা আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি এখন ওপেন সিক্রেট।

অনুসন্ধানে জানা যায়, একাধিক ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়িতা অধিকারী কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল ও জামানতের চেক পরিশোধের ক্ষেত্রে গুনে গুনে বুঝে নেন কমিশন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার জানান, জেলার সদর উপজেলা, ইসলামপুর, সরিষাবাড়ি, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ,মাদারগঞ্জ ও বকশিগঞ্জে স্কুল, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলেজ( টিএসসি) স্থাপনের সকলকাজে জয়িতা অধিকারী ৭ থেকে ১০% হিসেবে অগ্রীম কমিশন গ্রহণ করেন।
এছাড়া জামালপুরে যোগদানের পর থেকেই অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন এবং বাছাই করা উন্নয়ন কাজগুলো জয়িতা নিজেই বিভিন্ন কৌশলে বাগিয়ে নিয়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাছে উচ্চ কমিশনে বিক্রী করে আসছেন। আর এভাবেই সু কৌশলে জয়িতা অধিকারী হয়েছেন কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক।
জয়িতা অধিকারীর বিষয়ে কথা হয় পরিচালক( প্রশাসন ও অর্থ) মামুনুর রশিদের সাথে, তিনি এই প্রতিবেদককে লিখিত অভিযোগ অথবা ইমেইল করার পরামর্শ দেন।