• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
Headline
নেত্রকোনা জেলা রেজিস্ট্রার আ:খালেকের মাসিক উপরি আয় দেড় কোটি টাকারও বেশি শালিখায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিল্লাল গ্রেফতার ঈদ আনন্দে ক্রিকেটের উন্মাদনা, মণিরামপুরে ইয়ুথ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর উঠানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মণিরামপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত ঈদে আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার পথে প্রাণ গেল দুই যুবকের বেনাপোল রাজস্ব কর্মকর্তা রাসেল কবিরের নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় সরাইলে পারিবারিক বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা সাজিদ হাসানের সৌজন্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে চুয়াডাঙ্গার বাড়াদী সীমান্তে নারী শিশু সহ আটক ১০

মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির ও আওলাদ-হারিছ গং এবার শুরু করেছে অভিনব লুটপাট। খাসকামরায় ছিটকিনি লাগিয়ে চলে বেশুমার বাণিজ্য

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, ঢাকা :) / ৯৪ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬

সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির ও সহকারী হারিছ

 

ঘুষ দুর্নীতি ও জালজালিয়াতির আতুড়ঘর হিসেবে খ্যাত রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে এবার শুরু হয়েছে স্মরণকালের ভয়াবহ লুটপাট। গত একসপ্তাহ আগে সাব রেজিস্ট্রার আঃ কাদিরের নির্দেশে মিস্ত্রি ডেকে এনে খাসকামরার ভীতর দিকে লাগানো হয়েছে দামি চায়না সিটকিনি। বিশেষ বিশেষ দলিল বাছাই করে খাসকামরায় ডেকে এনে অনেকটা “গলায় পা দিয়ে” দলিল প্রতি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। আর যারা আ: কাদিরের নির্দেশ মোতাবেক হারিছ বা আওলাদের হাতে দাবীকৃত অবৈধ টাকার বান্ডিল দিতে অপারগতা প্রকাশ করছেন, তাদের দললি সাব রেজিস্ট্রার এর সামনেই আওলাদ হারিছ দলিল আটকে রেখে খালি হাতে ভূক্তভোগী গ্রাহককে ” অর্ধচন্দ্র দিয়ে” বের করে দিচ্ছে যুলীগের পেতাত্মা নকলনবিশ ও সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদিরের কালেকশন টিমের বস্ আওলাদ হোসেন। আওলাদ হোসেন একটি ডাকাতি মামলা ও ইয়াবা মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি। ফার্মগেট সংলগ্ন কলমিলতা বাজার এলাকার(তেজকুনি পাড়া) ডাকাতি মামলার আসামি ও ৫ হাজার পিস ইয়াবা নিয়ে তেজগাঁও থানা পুলিশের হাতে আটক হয়। সে মামলা এখনো চলমান। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ইচ্ছে করলে সপ্তাহের ৫ কর্মদিবসের মধ্যে সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টার মধ্যে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালালে আওলাদকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা সম্ভব।

সিটিকিনি লাগিয়ে যেভাবে কালেকশন করা হয় >>

এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, ফ্লাট রেজিস্ট্রেশন ও বন্ধকী দলিল বা মর্গেজ দলিল করতে গেলে সাব রেজিস্টার আ: কাদিরের নির্দেশে সেসব দলিল আওলাদ ও হারিছ আটকিয়ে দেয়। এসব দলিল কেনো রেজিষ্ট্রেশন হবেনা জানতে চাইলে বলেন, ফ্লাট বা জমির মূল্য অনুপাতে লোন অনেক বেশি। আরো বলেন আপনি লোন নিয়েছেন ১ কোটি, আপনি কলাতলী করেছেন ৩০ লাখ। পরে নীচুস্বরে বলেন আমার অফিস খরচের একটু ব্যবস্থা করে দেন। উক্ত সাব রেজিস্টার ভুক্তভোগী কে আরো বলেন, এখানে অনেক টাকা রাজস্ব ঘাটতি আছে। এই টাকার ওয়ান থার্ড( এক তৃতীয়াংশ) দিলে আমি রেজিস্ট্রেশন করে দিব, তাতে আসে ২ লাখ টাকা। এরকম বহু দলিল প্রতিদিন আটকিয়ে রেখে কন্টাক্ট করে ঘুষ আদায় করা হচ্ছে খাসকামরায় ছিটকিনি লাগিয়ে। এছাড়া অনেক সময় খাস কামরায় দলিল লেখক কে ডেকে নিয়ে সিটকানি লাগিয়ে কন্টাক্ট করা হয়। আওলাদ হোসেন, হারিছ, ইমরান হোসেন, এনামুল হক এবং অবশ্যই সাব রেজিস্ট্রার আঃ কাদির সহ এই ৫ জন মানে ” পঞ্চ রত্ন ” বিকাল সাড়ে চারটা ৫টার পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় খাসকামরায় ঘুষের টাকা এই পঞ্চরত্ন ভাগাভাগি করে নেয়।

প্লেনে করে অফিসে আসেন সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির >>

প্লেনে করে অফিসে আসেন সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির।। তার বিলাসী জীবনের রসদ জোগায় আওলাদ ,এনামুল, ইমরান, মোস্তফাও হারিছ মিয়া ।
ঢাকা রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস বহু আগে থেকেই রয়েছে আলোচনা সমালোচনায়৷ বিশেষ করে ঘুষ দুর্নীতির বরপুত্র সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির এই অফিসে যোগদানের পর থেকেই ঘুষ দুর্নীতি বেড়েছে কয়েকগুণ। সাব রেজিস্ট্রারের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও প্রতি বৃহস্পতিবার প্লেনে ঢাকা টু সিলেট আর সিলেট টু ঢাকার টাকা যোগাড় করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের পকেট কেটে।

৩ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে মোহাম্মদপুরে পোস্টিং >>

অন্তবর্তি সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কে ৩ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে আ: কাদির মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ঢুকে ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যের দোকান খুলে বসেছেন। আর তাঁকে সার্বক্ষণিক সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে সহকারী হারিছ মিয়া নকলনবিশ আওলাদ হোসেন এবং নিয়োগপত্র ছাড়াই এই অফিসের আরো চার রত্ন। এই ৪ রত্ন হলো কালেকশন বস্ আওলাদের ভাই কথিত উমেদার আকিব হোসেন, মোস্তফা কামাল, ইমরান হোসেন, মোস্তফা ও এনামূল ।

নিয়োগপত্রবিহীন কথিত স্টাফদের বিষয়ে বে-খবর আ: কাদির >>

এতগুলো মানুষ অবৈধভাবে আওলাদ হোসেন ও হারিছের ব্যক্তিগত প্রভাবে নিয়োগপত্র বিহীন চাকরি করলেও সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির আজপর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি। তিনি ডুবে আছেন অবৈধ টাকা হাতানোর একমাত্র নেশায়।

সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদিরের বাসায় অবৈধ টাকা পৌঁছায় বুধবার >>

ঘুষ বাণিজ্য, দলিল হালজালিয়াতি, ছিটকিনি লাগিয়ে দলিল ঠেকানো থেকে শুরু করে দলিলে ঘষামাজা( টেম্পারিং), ভোটার আইডি পরিবর্তন, খাস খতিয়ান ও শত্রু সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় এবং ডেভলোপার কোম্পানির নামে দলিল করে দিয়ে প্রতি সপ্তাহে সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদিরের ফার্মগেটের বাসায় প্রতি বুধবার রাতে পৌঁছে যাচ্ছে ৫০/৬০ লাখ টাকা।
আর এসব অবৈধ কালেকশন বাণিজ্যের টাকা বাজারের থলেতে ভরে উপরে শাকপাতা দিয়ে সংগোপনে ফার্মগেটের বাসায় পৌঁছে দেয় নিয়োগপত্র বিহীন কথিত স্টাফ এবং হারিছ ও আওলাদের প্রিয়জন হিসেবে খ্যাত ” ইউসুফ “।

দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের করনীয়

দুদক এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যবৃন্দ যদি ছদ্মবেশে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদিরের খাস কামরায় আকষ্মিক অভিযান পরিচালনা করলে এদের থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে।

এছাড়া প্রতি বুধবার রাত ৮ টা থেকে সাব রেজিস্ট্রার এর ফার্মগেটের বাসার আশেপাশে ওৎপেতে থাকলে টাকার থলে সহ ইউসুফ কে এরেস্ট করলেই ” কান টানলে মাথা আসে ” স্ট্যাইলে সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদিরের আমলনামা সামনে চলে আসবে।।

নিরুত্তাপ জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান >>>>>

মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে রহস্যজনক কারণে ৩ বৈধ স্টাফ দীর্ঘদিন নিরুদ্দেশ ও আওলাদ হারিছ এর মাধ্যমে নিয়োগপত্র বিহীন ৩ বহিরাগত যুবকের অনুপ্রবেশ এবং রেকর্ড রুমে ঢুকে এইসব বহিরাগতদের সন্দেহজনকভাবে মূল্যবান কাগজপত্র ঘাঁটাঘাঁটি দেখলে যেকোনো সচেতন মানুষের পিলে চমকে যাবে।
তবে এসব বিষয় সবকিছু জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান জানলেও রহস্যজনক কারণে তিনি রয়েছেন ” নিরুত্তাপ ”
এসব অভিযোগ জানিয়ে জেলা রেজিস্ট্রার কে একাধিক বার ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলে এবং অসংখ্যবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়াশব্দ করেন না। তবে কি আমরা ধরে নেবো ” মাছের মাথায় পচন ধরেছে ” ?????

 

( আরো বিস্তারিত পড়ুন আগামীকাল প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে) 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা