• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
Headline
নেত্রকোনা জেলা রেজিস্ট্রার আ:খালেকের মাসিক উপরি আয় দেড় কোটি টাকারও বেশি শালিখায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিল্লাল গ্রেফতার ঈদ আনন্দে ক্রিকেটের উন্মাদনা, মণিরামপুরে ইয়ুথ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর উঠানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মণিরামপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত ঈদে আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার পথে প্রাণ গেল দুই যুবকের বেনাপোল রাজস্ব কর্মকর্তা রাসেল কবিরের নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় সরাইলে পারিবারিক বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা সাজিদ হাসানের সৌজন্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে চুয়াডাঙ্গার বাড়াদী সীমান্তে নারী শিশু সহ আটক ১০

পল্লবীর বি ব্লকে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে নির্যাতন শেষে হ*’ত্যা

সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার:  / ৩১ Time View
Update : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

 

রাজধানীর মিরপুরে আট বছরের এক শিশুকে ওয়াশরুমে আটকে রেখে নৃশংসভাবে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ ঘিরে তীব্র শোক, আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত শিশুটির নাম রামিসা আক্তার। পরিবারের অভিযোগ, অপরাধের আলামত গোপন করতেই পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিরপুরের পুরো এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর ১১ নম্বর বি-ব্লকে ৭ নং সড়কে একটি ভবনে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দিনের আলোয় এমন ভয়াবহ ঘটনা তাদের নিরাপত্তাবোধকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিনও সমবয়সী শিশুদের সঙ্গে খেলতে বের হয়েছিল রামিসা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সে বাসায় ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা মিলে আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে স্থানীয় একটি ভবনের ওয়াশরুমের ভেতর থেকে শিশুটির রক্তাক্ত ও নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত সবাই স্তব্ধ হয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শিশুটিকে প্রথমে পাশবিক নির্যাতনের শিকার করা হয় এবং পরে সেই ঘটনা ধামাচাপা দিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের আগ পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। স্থানীয়দের অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা এখন চরম উদ্বেগে আছেন।

নিহত শিশুটির বড় বোন গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না। আমার ছোট বোনটা খুব শান্ত স্বভাবের ছিল। ওকে কেন এভাবে মেরে ফেলা হলো, আমরা বুঝতে পারছি না।”

রামিসার চাচাতো ভাবি মোসাম্মৎ রানু খাতুন জানান, তাদের পরিবার প্রায় চার থেকে পাঁচ দশক ধরে এই এলাকায় বসবাস করছে। কখনো কোনো ধরনের বিরোধ বা ঝামেলায় জড়ায়নি তারা।

 

তিনি বলেন, “যারা এই কাজ করেছে, তাদের এমন শাস্তি দিতে হবে যেন আর কোনো শিশু এভাবে নির্যাতনের শিকার না হয়। আমরা শুধু দ্রুত বিচার চাই।”

স্বজনদের কান্না আর প্রতিবেশীদের ক্ষোভে পুরো এলাকায় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, এই ঘটনার পর নিজেদের সন্তানদের একা বাইরে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন তারা।

আতঙ্কে অভিভাবকরা, বদলে যাচ্ছে এলাকার চিত্র
ঘটনার পর মিরপুর ও আশপাশের এলাকায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক পরিবার এখন শিশুদের বাসার বাইরে খেলতে দিচ্ছেন না। সন্ধ্যার পর অলিগলি প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, আবাসিক এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত নজরদারি নেই। বহিরাগতদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ কিংবা সন্দেহজনক আচরণ পর্যবেক্ষণে অনেক ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখা যায়। ফলে অপরাধীরা সহজেই সুযোগ পেয়ে যায়।

তাদের দাবি, প্রতিটি এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

তদন্তে গুরুত্ব দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
যদিও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্ত দল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং এটি পূর্বপরিকল্পিত কি না— সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার, মানসিক বিকারগ্রস্ততা এবং পারিবারিক ও সামাজিক নজরদারির দুর্বলতা— এসব কারণ শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরাধীরা সাধারণত শিশুদের সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেয়। কারণ শিশুরা আত্মরক্ষা করতে পারে না এবং ভয় পেলে অনেক সময় কিছুই বুঝে উঠতে পারে না।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে এই ধরনের অপরাধ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ ও প্রশাসন— সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা তৈরি এবং সন্দেহজনক আচরণ দ্রুত শনাক্ত করাও জরুরি।

এই হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বাসিন্দারা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, শিশু নির্যাতন ও হত্যার মতো সংবেদনশীল মামলার বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে গেলে সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যায়।

এলাকাবাসীর অনেকেই বলছেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই দ্রুত তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে। এরপর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা