• বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন
Headline
নেত্রকোনা জেলা রেজিস্ট্রার আ:খালেকের মাসিক উপরি আয় দেড় কোটি টাকারও বেশি শালিখায় শীর্ষ সন্ত্রাসী বিল্লাল গ্রেফতার ঈদ আনন্দে ক্রিকেটের উন্মাদনা, মণিরামপুরে ইয়ুথ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর উঠানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মণিরামপুরে জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত ঈদে আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার পথে প্রাণ গেল দুই যুবকের বেনাপোল রাজস্ব কর্মকর্তা রাসেল কবিরের নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় সরাইলে পারিবারিক বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা সাজিদ হাসানের সৌজন্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে চুয়াডাঙ্গার বাড়াদী সীমান্তে নারী শিশু সহ আটক ১০

রাজধানীর মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ভয়ংকর আওলাদ গং,দীর্ঘ ১৭ মাস ৪/৫ জন নিয়োগপ্রাপ্ত স্টাফ অনুপস্থিত,৩ অবৈধ কামলা চাকরি করছে কোন যোগ্যতায়,জানেনা সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদির

অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, ঢাকা: / ৮৬ Time View
Update : শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬

ঢাকা রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লেক্সের মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস এখন বহিরাগত নিয়োগপত্র বিহীন অবৈধ কামলাদের চাকরি করে টাকা কামানোর নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ ১৭ মাস যাবৎ ৪/৫ জন নিয়োগপ্রাপ্ত লিগ্যাল সিনিয়র স্টাফ কেনো অফিসে অনুপস্থিত তা জানেনা ঘুষ দুর্নীতির বরপুত্র সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির।

তেমনি মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের গোপনীয় রেকর্ড রুমে যখন তখন তালা খুলে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র ঘাঁটাঘাঁটি ও কাগজপত্র বাইরে পাচার করছে আওলাদ হোসেনের ভাই আকিব সহ নিয়োগ বিহীন তিন বহিরাগত কামলা। কার সাহসে এরা গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডরুমে প্রবেশ করছে, তাদের কাছে এই অফিসের জমি ও ফ্লাট মালিকদের মূল্যবান দলিলপত্র কতোটা নিরাপদ সেসব বিষয়ে পুরোটাই বে-খবর সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির।

এ প্রসঙ্গে একজন ভূক্তভোগী বলেন, সাব রেজিস্ট্রার আজ আছে কাল নেই, যে কোনো সময় তিনি বদলি হয়ে যেতে পারেন, কিন্তু বহিরাগতদের হাতে রেকর্ড রুমের চাবি চলে যাওয়ার খেসারত জমি মালিকদের বহন করতে হবে যুগের পর যুগ। তারপরও এর পরিপূর্ণ সমাধান অসম্ভব।

এই অফিসের সিন্ডিকেট প্রধান আওলাদ হোসেনের ভাষ্য আমার ভাই আকিব সহ কেউ এখানে অবৈধ নয়, তাদের কে মৌখিক নিয়োগ দিয়ে প্রতিদিন ১২ পাতা করে নকল লেখার কাজ দেওয়া হয়েছে। অথচ এদের কারো কাছে ডায়েরি নেই, নেই নকল লেখার লিগ্যাল প্রমাণ, সারাক্ষণ এরা সময় কাটাচ্ছে রেকর্ড রুমে।

জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান আচমকা এই অফিসে অভিযান চালালে এদের এসব অপকর্ম হাতেনাতে ধরতে পারবে।

অথচ সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির, সহকারী হারিছ,সিন্ডিকেট প্রধান আওলাদ হোসেন, আওলাদের ভাই আকিব, সবুজ, নকলনবিশ আমিনুল,বহিরাগত ইউসুফ হাওলাদার,ইমরান হোসেন, আইনাল হোসেন ও মোস্তফা কামালদের বিষয়ে একাধিকবার গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলেও রহস্যজনক কারণে জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সি মোখলেছুর রহমান রয়েছেন ঠুঁটোজগন্নাথ হয়ে।

এম্নিতেই মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস বহু আগে থেকেই রয়েছে আলোচনা সমালোচনায়৷ বিশেষ করে ঘুষ দুর্নীতির বরপুত্র সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির এই অফিসে যোগদানের পর থেকেই ঘুষ দুর্নীতি বেড়েছে কয়েকগুণ। সাব রেজিস্ট্রারের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও প্রতি বৃহস্পতিবার প্লেনে ঢাকা টু সিলেট আর রবিবার সকালের ফ্লাইটে সিলেট টু ঢাকার টাকা যোগাড় করা হচ্ছে ভুক্তভোগীদের পকেট কেটে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ অন্তবর্তি সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কে ২ কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ঢুকে ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যের দোকান খুলে বসেছেন।

আর মোহাম্মদপুর অফিস থেকে তার টার্গেট না-কি ৫০ থেকে ৬০ কোটি। সে মিশনে তিনি বেশ এগিয়েও গেছেন। তবে কতোদিনের মাথায় তিনি এই টার্গেট পূরণ করতে পারবেন সেটাই অবসর সময়ে আওলাদ হারিছ গংদের গোপন আলোচনার বিষয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লুটেরা সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদিরের টাকার মিশন সাকসেস করতে তাঁকে সার্বক্ষণিক সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে সহকারী হারিছ, নকলনবিশ আওলাদ হোসেন এবং কালেকশন বস্ আওলাদের ভাই কথিত উমেদার আকিব হোসেন, ইউসুফ হাওলাদার, মোস্তফা কামাল, ইমরান হোসেন ও আইনাল হোসেন। এতগুলো মানুষ অবৈধভাবে আওলাদ হোসেন ও হারিছের ব্যক্তিগত প্রভাবে নিয়োগপত্র বিহীন চাকরি করলেও সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির আজপর্যন্ত এদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি। তিনি ডুবে আছেন অবৈধ টাকা হাতানোর একমাত্র নেশায়।

রাজধানীর মহামূল্যবান জমির রেকর্ডপত্র মোস্তফা কামাল ও ইমরান হোসেন যখন-তখন রেকর্ড রুমের তালাচাবি খুলে হাতড়াতে থাকে। এদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই গোপনীয় রেকর্ডের তথ্য পাচার, ওভার রাইটিং ও এনআইডি পরিবর্তন করার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিসের চাবি ও রেকর্ড রুমের চাবি থাকবে অফিস সহকারীর কাছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড রুমের কাজকর্ম সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের নির্দেশে মোস্তফা কামাল ও ইমরান হোসেন কে দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে।

নিয়োগপত্র বিহীন এসব উটকো লোকের কাছে চাবি থাকাই গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের গোপনীয়তা হরহামেশাই হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের।। মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রতি মাসে ৩ কোটি টাকা করে হাতানোর মিশনে ভীষণ ব্যস্ত BRSA’ র নেতাদের বাইপাস করে সরাসরি আইন উপদেষ্টাকে উপঢৌকন দেওয়া আঃ কাদির। আর তাই দলিল ৫% থেকে ১০% হারে টাকা বুঝে নিয়ে তিনি দলিলে স্বাক্ষর করেন।

সাব রেজিস্ট্রার এর নির্দেশ মোতাবেক টার্গেটের টাকা হারিছ, আওলাদ, আকিব, মোস্তফা ও ইমরানরা যে কেউ হাতানোর পর দলিলের মাথায় দেয় বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন। সেসব দলিল সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদির স্বাক্ষর করেন খোশমেজাজে, উৎফুল্লচিত্তে।

আর যেসব দলিল ওই বিশেষ সাংকেতিক চিহ্ন না থাকে সেগুলো রাগান্বিতভাবে বা দলিলে সমস্যা আছে এমন কৃত্রিম ভাবগাম্ভীর্যে দূরে ঠেলে দেন।

আর যেসকল জমি দাতা গ্রহীতা মুখের উপর বলে ফেলেন সরকারী ফিস ছাড়া একটি টাকাও অতিরিক্ত দিবেন না– তাহলে সেসব ভুক্তভোগীদের ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। আর কারণ হিসেবে মনগড়া হাজারো সমস্যা উত্থাপন করেন কথিত ক্যাশিয়ার গং।

আবার সাব রেজিস্ট্রারের টার্গেট মোতাবেক নজরানা দিতে পারলে হাজারো সমস্যাযুক্ত এসব দলিল ১৫ মিনিটের মধ্যেই নিষ্কণ্টক হয়ে রেজিষ্ট্রেশন হয়ে যায় চোখের পলকে।

এভাবে সপ্তার ৫ কর্মদিবসে অবৈধ পন্থায় আদায় করা কালেকশনের গরম টাকা সাব রেজিস্ট্রার আ: কাদিরের ফার্মগেটের বাসায় প্রতি বুধবার রাতে বিশেষ কৌশলে বাজারের থলিতে ভরে উপরে শাকপাতা দিয়ে ঢেকে নাটকীয় কায়দায় পৌঁছে দেয় নিয়োগপত্র বিহীন কথিত স্টাফ ইউসুফ হাওলাদার।

মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘ দেড়বছর একাধিক স্টাফ কেনো অনুপস্থিত? কেনো বহিরাগতদের হাতে রেকর্ড রুমের চাবি ? DIGR মহোদয় ঝটিকা অভিযান চালালেই সব দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট হয়ে ধরা দিবে।

তেমনি দুদক এনফোর্সমেন্ট টিম যদি ছদ্মবেশে প্রতি বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে সাব রেজিস্ট্রার আব্দুল কাদিরের ফার্মগেটের বাসার আশেপাশে অবস্থান নেয় তাহলে ঘুষ দুর্নীতির অবৈধ টাকার ব্যাগসহ হাতেনাতে পাকড়াও করতে পারবে।।

 

( আরো বিস্তারিত পড়ুন আগামীকাল প্রিন্ট ও অনলাইন ডিজিটাল প্লাটফর্মে )


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা