সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুর বিআরটিএ (BRTA) কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান (কামরুল)-এর বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চলছে তুমুল হৈচৈ। তবে এসব ঘটনার মূল মাস্টারমাইন্ড বা নাটের গুরু কুকিচীনের সাবেক ক্যাডার পলাশ খীসা। কারণ এ অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অর্জিত সকল অবৈধ কালেকশনের ৭০% টাকা দিন শেষে নিজ ঝুলিতে তুলে নেন পলাশ খীসা। বাকি ৩০% টাকা সকল অফিস স্টাফ, দালাল সর্দার ও অন্যান্যদের মাঝে ভাগবাটোয়ারা হয়ে থাকে।
এই যখন অবস্থা,তখন সকল ঘুষ দুর্নীতি ও লুটপাট বাণিজ্যের হোতা হিসেবে দেখানো হচ্ছে মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান কামরুলকে। এটা অসত্য নয় ” অন্যায়”। মানে ” কেউ মরে বিল সেচে, কেউ খায় কৈ”।
ইতোমধ্যে ৪ঠা মে ২০২৬ তারিখে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে নাটকীয় বিক্ষোভ সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়েছে। আসলে এ সবই পিছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করছেন পলাশ খীসা। তাঁর পৌষ্য কতিপয় সাংবাদিক ও কিছু ভাড়াটে লোক দিয়ে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয় বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। কারণ গোপন আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে পলাশ খীসা চাইছেন না — পরিদর্শক মেহেদি হাসান ফরিদপুরে থাকুক। তিনি গোপনে মেহেদিকে বদলি বা ওএসডি করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও সে নাটক হেড অফিসে পাত্তা পায়নি।
এদিক পলাশ খীসার ভাড়াটে লোকজনের ভাষ্য গত এক দশকে মেহেদী হাসান নিজ নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
আরো বলা হয়েছ, ফরিদপুরের তাম্বুলখানা ও সমেপুর বাজার এলাকায় কোটি টাকার জমি ক্রয় এবং ৫০-৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন। কিন্তু মেহেদী হাসানের পিতৃকুল থেকে এবং শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রাপ্য অর্থ ও বিশাল পরিমাণ ব্যাংক লোনের কথা কথিত আন্দোলনকারীরা বেমালুম গায়েব করে দিয়েছেন।
পলাশ খীসার কতিপয় কথিত পোষ্য সাংবাদিক লিখেছেন অবৈধ আয় গোপন করতে ভগ্নিপতি জহির শেখের নামে মধুখালীর মাঝকান্দি বাজারে দোকান এবং শ্বশুরবাড়ি এলাকায় ২৫-৩০ লাখ টাকার বাগান বাড়ি গড়ে তুলেছেন মেহেদী হাসান। যা নিতান্তই হাস্যকর ও সত্যের অপলাপ। একটি বাগানবাড়ী করতে যে পরিমাণ জমি ক্রয় করতে হয় এরপর স্থাপনা নির্মাণ ও সাজসজ্জা করাতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় তা মনে হয় আন্দোলনকারী ভাড়াটে বন্ধুদের মজ্জাতে ঢুকেনি। কারণ ২০/২৫ লাখ টাকায় কখনোই বাগান বাড়ি করা সম্ভব নয়৷ যেমন ডিবি হারুন, সাবেক আইজিপি বেনজিরের এক একটা বাগানবাড়ির মূল্য হাজার কোটি টাকার ও বেশি।
তাছাড়া ২০/২৫ লাখ টাকা বর্তমান সময়ে অনেক ভ্যানওয়ালা, রিকশাওয়ালা ও অটোওয়ালার পকেটেও থাকে। আজকাল প্রায় দেখা যায় ভ্যানওয়ালার মেয়ের বিয়েতেও ২০/৩০ লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়।
সরকারি কর্মকর্তা হয়েও মেহেদী হাসাব নিজে ঢাকা মেট্রো-ক-২০-৫৮৩১ এবং ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৩৩৭০ সহ একাধিক আন্তঃজেলা ট্রাকের মালিকানা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ ভাড়াটে আন্দোলনকারীদের। তবে সত্য এটাই যে, কোনোকিছু নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনা করা আর মালিকানা সত্ত্ব ভোগ করা এক কথা নয়।
মেহেদী হাসান কামরুল এর টেবিলে ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের।
তাই সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিন:) পলাশ খীসা বা পলাশ খীসাদের চেয়ারে যারা বসে এরাই নিয়ন্ত্রণ করে গোটা জেলা অফিস। তাদের চাওয়াপাওয়া আর ফরমায়েশি করতেই দিন মাস বছর চলে যায় মোটরযান পরিদর্শক, ম্যাকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মূদ্রাক্ষরিকের।