• বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
Headline
বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণা, ধর্ষণের অভিযোগে আদালতকর্মী অভিযুক্ত বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে চান ইমদাদুল হক ইমদাদ স্বেচ্ছাসেবকলীগের সেক্রেটারি পংকজ কুমার দেবনাথের ভাই BRTA ঢাকামেট্রো-৩ এর ‘ছায়া সম্রাট’ সুব্রত কুমার দেবনাথ বহাল এখনো ???  একপেশে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন সততা, নিষ্ঠা আর দায়িত্বশীলতার পুরষ্কার রুখে দেওয়া যায় না জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে নতুন আন্দোলনের পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে’–চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত নেতা জুবায়ের বেনাপোল বন্দরে নথিপত্রহীন পণ্য জব্দের পর পাচার, অভিযুক্ত শেড ইনচার্জ আবুল খায়ের,সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাইদুল,আনোয়ার ও রাসেল এখনো বহাল তবিয়তে রংপুরে ‘লাক্সারি চাইনিজ অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার এর যাত্রা শুরু ঠাকুরগাঁওয়ে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা মহোৎসব অনুষ্ঠিত ইউএনও রাকিবুল ইসলামের নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে পোরশা

জনগণের রায় বনাম রাজনৈতিক নিয়োগ: গণতন্ত্রের মর্যাদা কোথায়?

এম একরামুদৌলা আসাদ / ৯৩ Time View
Update : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের মতামত ও ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন। একটি নির্বাচনে জনগণ যাঁকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেন, তিনি জনগণের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক ও রাজনৈতিক বৈধতা অর্জন করেন। অন্যদিকে যিনি পরাজিত হন, তিনি জনগণের সেই আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন—এটাই গণতান্ত্রিক বাস্তবতা।

রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে নিজেদের নেতা-কর্মীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। কোনো পদ যদি দলীয় বা অস্থায়ী প্রশাসনিক দায়িত্বের অংশ হয়, সেখানে ভোটাভুটি ছাড়াই যোগ্য ও অভিজ্ঞ কোনো নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে সাধারণত তেমন বিতর্ক সৃষ্টি হয় না। কারণ এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল তাদের সাংগঠনিক প্রয়োজন ও কৌশল অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।

কিন্তু প্রশ্ন দেখা দেয় তখন, যখন জনগণের ভোটে পরাজিত কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জন্য নির্ধারিত বা প্রায় সমমর্যাদার কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়। কারণ ভোটাররা যখন একজন প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, তখন তাঁকে অন্য কোনো পথ দিয়ে প্রায় একই ধরনের ক্ষমতা বা মর্যাদার আসনে বসানো জনগণের রায়ের প্রতি অসম্মান হিসেবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।

গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন আয়োজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নির্বাচনের ফলাফলকে সম্মান করার মধ্যেও এর প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। জনগণ যদি কোনো ব্যক্তিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য উপযুক্ত মনে না করেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক দল ও সরকারের শ্রদ্ধার সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত। অন্যথায় ভোটারদের মনে এই ধারণা জন্ম নিতে পারে যে তাঁদের ভোটের মূল্য শেষ পর্যন্ত তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না।

অবশ্য এর বিপরীত যুক্তিও রয়েছে। অনেক সময় কোনো প্রার্থী নির্বাচনে পরাজিত হলেও তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা বা বিশেষজ্ঞ জ্ঞান রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে উপদেষ্টা বা বিশেষ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়। তবে এমন নিয়োগের ক্ষেত্রেও জনমতের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক নৈতিকতার প্রশ্নটি বিবেচনায় রাখা জরুরি।
একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের ভোটই সর্বোচ্চ বিচারক। তাই নির্বাচনে পরাজিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার আগে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জনগণের রায়, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার বিষয়গুলো গভীরভাবে বিবেচনা করা। জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, আর সেই রায়ের অবমূল্যায়ন গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থাকে দুর্বল করে দেয়।

গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি ক্ষমতা অর্জনে নয়, বরং জনগণের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার মধ্যেই নিহিত। তাই জনগণ যাকে নির্বাচিত করেছে, তার প্রতি শ্রদ্ধা এবং যাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই রায়ের প্রতিও সম্মান দেখানোই একটি দায়িত্বশীল ও গণতন্ত্রমনা সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।

 

লেখক,

সম্পাদক

“নির্ভীক সংবাদ”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা